শ্রীপুরে বন বিভাগের ২০ কোটি টাকা মূল্যের জমি উদ্ধার

গাজীপুরের শ্রীপুরে অবৈধভাবে দখল করা ১০ একর জমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। পরে ওই জমিতে মিশ্র বাগান তৈরি করে বন বিভাগ। 

সোমবার (০১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর বিটের বরমী মৌজায় নেহালিয়া গ্রামে ঢাকা বন বিভাগের ১০ একর বনভূমি জবরদখল থেকে উদ্ধার করে বনায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ২০ বছর পর বেদখলে থাকা এই জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জের ব্যবস্থাপনায় ওই জমিতে বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক বনকর্মী অংশ নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৫ সালে ওই জমি নিয়ে বন বিভাগকে বিবাদী করে রেকর্ড সংশোধনী মামলা করা হয়। উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর গ্রামের সাহাব উদ্দিন মোড়লসহ আরও কয়েকজন আদালতের দ্বারস্থ হন। সম্প্রতি আদালত এ মামলায় বন বিভাগের পক্ষে রায় দেন। এরপর বন বিভাগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমিটি দখলে নিয়ে সেখানে বনায়ন কার্যক্রম শুরু করে।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও দখলদাররা জোরপূর্বক জমিটি দখল করেছিল। ২ নং খতিয়ানে দান নম্বর সিএস ও এসএ ৩৯৭, আরএস দাগ নম্বর ৯৮১। দুইপক্ষের আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে বন বিভাগ জমির মালিকানা বুঝে নেয় এবং সেখানে বনায়ন কার্যক্রম চালানো হয়।

এ প্রসঙ্গে জমি দখলে রাখা সাহাব উদ্দিন মোড়লের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাতখামাইর বিটের ফরেস্ট রেঞ্জার তানভীর আহম্মেদ বলেন, “উদ্ধার হওয়া জমির বাজার মূল্য অন্তত ২০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন বেদখলে ছিল। আইনি লড়াই শেষে বন বিভাগ জমিটি বুঝে নিয়ে উদ্ধার করেছে। আশাপাশে আরও বেদখল থাকা বনাঞ্চলের জমি উদ্ধারের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হবে।”

শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান জানান, “দীর্ঘদিন আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা জমিটি উদ্ধার করে সেখানে বিভিন্ন জাতের চারা রোপণ করেছি। মেহগনি, বহেরা, সোনালু, চিকরাশি, আশফল, লটকনসহ অন্যান্য প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ১০ একর জমিতে মোট ১০ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।”