বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন 

হত্যা মামলায় মৃত ব্যক্তিও আসামি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি ছুড়ে হত্যার ঘটনায় চার বছর আগে মারা যাওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চকবাজার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সায়িদ গোলাম হায়দার মিন্টুকে আসামি করা হয়েছে। সাবেক এই কাউন্সিলর ২০২১ সালের ১৮ মার্চ মারা যান। 

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে দায়ের করা নালিশী মামলার আবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১৮২ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

নালিশী ওই মামলার আবেদন করেন চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্সেস অফ হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র এ কে এম নুরুল্লাহ। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানার বগাদিয়া বিন্নাগাঁও গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাসনিম আক্তার নিশাত মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ একজন ছাত্র বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ১৮২ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো শাখাকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।’ 

মামলায় অভিযোগ করা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের চট্টগ্রামে এনে ৩৬ দিনব্যাপী পুলিশ ও ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। এছাড়া উল্লেখ করা হয়েছে, ‘শনাক্তকরণ সহজ করতে’ তারা মোবাইল সিম নিজ এলাকায় রেখে চট্টগ্রামে এসেছিল। বাদী আরও দাবি করেন— চিকিৎসা গ্রহণ এবং ‘মামলায় নিরীহ, নিরপরাধী লোক যেন অন্তর্ভুক্ত না হয়’ তাই মামলা রুজুতে কালক্ষেপণ হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক আসামির নাম বিশ্বস্ত সূত্র এবং বাদী নিজে যাচাই করেছেন।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান, সাবেক আইসিটি মন্ত্রী জোনায়েদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, সাবেক সিএমপি কমিশনার সাইফুল ইসলাম, সাবেক চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, রেজাউল করিম, শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মো. সাইফুল আলম, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা সাবেক মেজর তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মুজিবুর রহমান, সাবেক সিইসি নুরুল হুদা, কাজী হাবিবুল আউয়াল, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, চবকের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম প্রমুখ। 

সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে আসামি করা হয়েছে, নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, মাহবুবুর রহমান রুহেল, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আবদুর রহমান বদি, দিদারুল আলম, আশেক উল্ল্যাহ রফিক, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাইমুম সরওয়ার কমল, এসএম আল মামুন, এম এ লতিফ, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আবু রেজা মো. নেজামুদ্দিন নদভী, ফজলে করিম চৌধুরী, মুজিবুর রহমান এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে।

বাদী এ কে এম নুরুল্লাহ বলেন, ‘গত ৮ আগস্ট মামলা করতে নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে, তাই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি সুস্থ হয়েছি ঘটনার প্রায় চারমাস পর। এরপর দুই মাস সময় গিয়েছে একা একা দৌড়ঝাঁপ করতে করতে। আর কিছুদিন সময় নিয়েছি মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে; যে তারা প্রকৃতপক্ষে অপরাধ করেছে কি-না।’

এদিকে চার বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি কিভাবে জুলাই আন্দোলনে হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমিতো এটি জানতাম না। আমি নিজস্ব সোর্স ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে যথেষ্ট যাচাই-বাছাই করেছিলাম। এটা আমাকে একটু চেক দিতে হবে, দেখতেছি। হয়তো কোনো কারণে মিস্টেক হয়েছে।’