সিটি কলেজে সংঘর্ষ: ‘একটি পা কেটে নেয়া’র অভিযোগ শাহজাহান চৌধুরীর

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০ এএম

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় একজনের একটি পা কেটে নিয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই অভিযোগ করেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না করে কাউকে ঢালাওভাবে দোষারোপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংসদে শাহজাহান চৌধুরী দাবি করেন, নিউমার্কেটে গত ২৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশে যারা আক্রমণ করেছিল, তারাই আজ সিটি কলেজে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, `চট্টগ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য সিটি কলেজের ছাত্র নামধারী পার্শ্ববর্তী এলাকার অস্ত্রধারীরা সাধারণ ছাত্রদের ওপর আক্রমণ করে একজনের পা কেটে নিয়েছে। এদের নামে আগে থেকেই মামলা আছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রাফিতিতে একটি ছবি বা শব্দ লেখাকে কেন্দ্র করে এই সন্ত্রাসী আক্রমণ চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত ঘটনা জানতে তার কিছুটা সময় লাগবে। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, `চট্টগ্রামে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের একটি খবর পাওয়া গেছে। তবে একতরফা কাউকে ব্লেম করা ঠিক হবে না। মাননীয় সদস্যের উচিত হবে না কোনো তদন্ত ছাড়া একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করা।'

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও যোগ করেন, `অতীতের সংস্কৃতির মতো এক পক্ষ আরেক পক্ষকে যেন দোষারোপ না করি। এ বিষয়ে মামলা হলে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে। আমি ৩০০ বিধিতে এ বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত বিবৃতি দেব।'

এদিকে ওই সংঘর্ষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তজনা তৈরি হয়। মঙ্গলবার( ২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই দফায় এই সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের হাতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দেখা গেছে। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত