দলবদলের মৌসুমে অর্থ খরচের নতুন রেকর্ড গড়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। ট্রান্সফার ডেডলাইনের দিনে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে অ্যালেকজান্ডার ইসাককে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে টেনে নিয়ে লিভারপুল মোট খরচের অঙ্ককে তিন বিলিয়ন পাউন্ডের ওপারে ঠেলে দেয়।
গ্রীষ্মকালীন উইন্ডোতে সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো ফুটবলার কেনাবেচায় খরচ করেছে ৩.০৮৭ বিলিয়ন পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মকালীন উইন্ডোর ২.৩৬ বিলিয়ন পাউন্ডের রেকর্ড ভেঙে এবার তা আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে। তার আগের বছর এই খরচের অঙ্ক ছিল ১.৯৬ বিলিয়ন পাউন্ড।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর এই ব্যয় ইউরোপের শীর্ষ চার লিগ—লা লিগা, বুন্দেসলিগা, লিগ ওয়ান ও সিরি আ—মিলিত খরচের চেয়েও অনেক বেশি। এতে প্রমাণ হয়, অর্থ ঢালায় বাকিদের থেকে কতটা এগিয়ে গেছে ইপিএল।
এই রেকর্ডে সবচেয়ে বড় অবদান লিভারপুলের। ক্লাব ইতিহাসের রেকর্ড গড়ে ইসাককে দলে নেওয়ার পাশাপাশি পুরো ট্রান্সফার উইন্ডোতে তারা খেলোয়াড় কিনতে ব্যয় করেছে ৪১৫ মিলিয়ন পাউন্ড। এছাড়া ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় করেছে আরও পাঁচ ক্লাব—চেলসি (২৮৫), আর্সেনাল (২৫৫), নিউক্যাসল (২৫০), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (২১৬) ও নটিংহ্যাম ফরেস্ট (২০৫)। খরুচে ক্লাব হিসেবে পরিচিত ম্যানচেস্টার সিটি অবশ্য এবার তুলনামূলকভাবে কম, ১৫২ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে।
তবে শুধু খরচ নয়, খেলোয়াড় বিক্রি করেও মোটা অঙ্কের আয় করেছে ক্লাবগুলো। চেলসি বিক্রির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ২৮৮ মিলিয়ন পাউন্ড তুলেছে, ফলে সামগ্রিক হিসাবে প্রায় ৩ মিলিয়ন পাউন্ড লাভে রয়েছে লন্ডনের ক্লাবটি। সবচেয়ে বেশি নেট লাভ করেছে বোর্নমাউথ। তারা নতুন খেলোয়াড় কেনায় ব্যয় করেছে ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড, বিপরীতে বিক্রি থেকে আয় করেছে ২০৭ মিলিয়ন। ফলে তাদের লাভ দাঁড়িয়েছে ৮৭ মিলিয়ন পাউন্ডে।