যশোরে একটি মহিলা মাদরাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে ৩ শিক্ষার্থীর এক পিতা। ওই শিক্ষককে রক্ষা করতে গিয়ে তার বৃদ্ধা মাও আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দাইতলা নুরে মদিনা কওমি মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হচ্ছেন মাদরাসা শিক্ষক ও স্থানীয় চানপাড়া ফাঁড়ি মসজিদের ইমাম জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও তার মা মনোয়ারা বেগম (৬০)। তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চানপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ঘটনায় পরস্পর বিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত জাহাঙ্গীর আলম তাকে জানিয়েছেন- মাদরাসার পাশের বাসিন্দা দিনমজুর ইমদাদুলের তিন কিশোরী মেয়ে ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী। ২০২২ সাল থেকে তারা ওই মাদরাসায় পড়ালেখা করেন। বাড়িতে জায়গার সংকট থাকায় তিন বোন রাতে মাদরাসায় থাকে। কিন্তু তাদের পিতা নিয়মিত বেতন দেন না। বেতন চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাদরাসায় ঢুকে তাকে মারধর করা হয়েছে। এ সময় তার মা তাকে রক্ষা করতে আসলে তার ওপরও হামলা করা হয় এবং তার একটি পা ভেঙে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান আরও জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ইমদাদুল গা ঢাকা দিয়েছেন। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেছেন তার এক মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। ইমদাদুলকে সাক্ষাৎ করতে বললে তিনি সন্ধ্যায় আসবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। একারণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের দাবি মাদরাসা শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন ইমদাদুল। মাদরাসার শিক্ষকরা জানিয়েছেন, মহিলা এ মাদরাসায় সাত জন শিক্ষকের মধ্যে পাঁচ জনই নারী। তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীরের স্ত্রীও রয়েছেন।