ইনিংস লম্বা করার ঘোষণা বুলবুলের

আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। খেলা ছাড়ার পর আইসিসির ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হয়ে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্ব মানচিত্রের এমন অনেক প্রান্তে, যেখানে পৌঁছায়নি ব্যাট আর বলের সংঘর্ষের আওয়াজ। বিশেষ পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে এসে বুলবুল নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব। শুরুতে আভাস দিয়েছিলেন, তার ভূমিকা হবে অনেকটা ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’-এর মতো। তিন মাসের জন্য বিসিবি সভাপতির চেয়ারে বসে নির্বাচিত পরিচালকদের হাতে দায়িত্ব সঁপে দিয়ে ফিরে যাবেন আগের ঠিকানায়। তবে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে লাগবে আরও কিছুটা সময়, সেই দায় থেকেই ইনিংসটা লম্বা করতে চান বুলবুল। যে প্রকল্পগুলো তিনি হাতে নিয়েছেন, সে সবকে শেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন এনে দিতে চান বর্তমান সভাপতি।

মঙ্গলবার সিলেটের একটি হোটেলে বিসিবির বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয় অক্টোবরেই বিসিবির পরিচালক নির্বাচন আয়োজনের। বুধবার সিলেটে জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গিয়ে বুলবুল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘টেস্ট বা টি-টোয়েন্টি খেলা... আমি বলেছিলাম কুইক ইনিংস খেলার। সেটা এখনো শেষ হয়নি। কুইক ইনিংসটা শেষ হোক। আর যদি কন্টিনিউ করতে হয় টি-টোয়েন্টি থেকে ফিফটিতে যাব।’

বিসিবিতে পরিচালক হয়ে আসার পথ চারটি। ক্লাবের প্রতিনিধি, আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধি, সাবেক ক্রিকেটার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহের প্রতিনিধি এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রতিনিধি। প্রথম তিনটিতে হয় নির্বাচন, যার মধ্যে পরিচালক হবেন ২৩ জন। ২ জনকে মনোনয়ন দেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বর্তমানে বিসিবি পরিচালকদের মধ্যে সভাপতি বুলবুল ও সহসভাপতি নাজমুল আবেদীন ফাহিম এসেছেন ক্রীড়া পরিষদের প্রতিনিধি হয়ে। বুলবুলকে ক্রীড়া পরিষদ ফের মনোনয়ন দেবে কি না সেটাও তার অজানা, ‘আমার সঙ্গে এনএসসির এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। আমি শুধু এটা প্রকাশ করেছি যে সম্ভব হলে আমি নির্বাচন করব। আমি জানি না এখনো কীভাবে করব। আমি যে কাজগুলো শুরু করেছিলাম। এগুলো ভালোভাবে এগিয়ে চলেছে। মনে হচ্ছে এই কাজগুলো যেন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’ ক্রীড়া পরিষদের কোটায় সরাসরি পরিচালক হলে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে সভাপতি হতে পারেন বুলবুল, সিলেটে সাংবাদিকদের বলেছেন সেই কথাই, ‘অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহে, ইনশাআল্লাহ, আমরা নির্বাচন করব। সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এখানে সরাসরি সভাপতি নির্বাচিত হন না; পরিচালকরা নির্বাচিত হন। ওটাই প্রথম লক্ষ্য, আমি চেষ্টা করব থাকতে। পরবর্তী সময়ে যদি সুযোগ পাই, যে কোনোভাবে দেশের সেবা করার চেষ্টা করব।’

বুলবুল যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করেন, তাহলে বিসিবি সভাপতি পদে তার সঙ্গে দ্বৈরথ হতে পারে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের। তামিম সম্প্রতি একটি গ্ণমাধ্যমে বিসিবি সভাপতি হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন, প্রকাশ করেছেন নির্বাচনে অংশে নেওয়ার আকাক্সক্ষাও। তামিমের নিজস্ব মালিকানাতেই আছে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, এছাড়া রাজনৈতিকভাবে বিএনপির আশীর্বাদও পেয়েছেন চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটার। ঢাকার গে-ারিয়ার ছেলে বুলবুল যদি এনএসসি থেকে মনোনয়ন নাও পান, নিজ জেলা বা বিভাগীয় ক্রিকেট সংস্থা থেকেও তিনি মনোনয়ন পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে সরাসরি তামিম ও বুলবুল হয়তো পরিচালক পদে পরস্পরের মুখোমুখি হবেন না ভোটের লড়াইয়ে, তবে দুজনেই যদি পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়ে আসেন তাহলে সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে নির্বাচিত অন্য পরিচালকদের কাছ থেকে যিনি বেশি ভোট পাবেন তিনিই হবেন নতুন সভাপতি।