ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার কালিদাস পাহালিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে আইনি নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস. হাসানুল বান্না নোটিশটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান। মোট ১২ জনকে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কালিদাস পাহালিয়া নদীর সোনাগাজী অংশে ভাঙনরোধের অজুহাতে নবাবপুর ব্রিজ সংলগ্ন তলদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন চলছে।
প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, চর কাটার অনুমোদন থাকলেও প্রভাবশালী ঠিকাদাররা চর ছাড়াও সাধারণ মানুষের জমি থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু বিক্রি করার পাশাপাশি নীচু জমি ও পুকুর ভরাট এবং নদী দখল করে মৎস্য খামার তৈরিরও অভিযোগ রয়েছে।
নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে এই বালু উত্তোলনের কারণে নবাবপুর ব্রিজ, আশপাশের রাস্তা, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ খাজা আহম্মদ সেতু ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যে ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের পাল গ্রামে একাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে শ্মশান এবং রন্দ্রপুকুর সংলগ্ন নতুন দুর্গা মন্দির।
নোটিশে বেলা দাবি করে, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন বন্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ড্রেজার ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। এছাড়া পরিবেশ, বসতবাড়ি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতির জন্য দোষীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে কালিদাস পাহালিয়াসহ জেলার কোথাও বালুমহল ইজারা নেই এবং অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে নিয়মিত অভিযান চলছে।