টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়ার সাহসটা দেখাতে পারেননি লিটন দাস। নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোতে বাধ্য হয়েই বোধহয় আগে ব্যাট করতে নামল ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। সিরিজ জেতা হয়ে গেছে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে, তৃতীয়টিতে তাই একাদশে ৫ পরিবর্তন। তবে পরিবর্তনের পরেও বড় স্কোরের দেখা মেলেনি, পাওয়ার হিটিংয়ের প্রদর্শনীও হয়নি। ফিল্ডারদের ক্যাচ ফেলে দেওয়া, রিভিউতে বেঁচে যাওয়াসহ ভাগ্যের পূর্ণ সহায়তাই পেয়েছেন ব্যাটসম্যানরা, তারপরও দুইশ রানের ইনিংসের দেখা মিলল না। তার ওপর ফ্লাডলাইট বিপর্যয় আর বারবার বৃষ্টির হানা। শেষমেশ প-ই হয়েছে ম্যাচ।
পুরো শক্তির দল নিয়ে আসেনি নেদারল্যান্ডসও, হুট করে আয়োজন করা সিরিজে তারা আনতে পারেনি বাস ডি লিডি, লোগান ফন বিকদের। এমন খর্বশক্তির ডাচ দলের বিপক্ষে প্রথম দুটো ম্যাচে বাংলাদেশ পরে ব্যাট করে জিতেছে ৩১ ও ৪১ বল হাতে রেখে। বুধবার আগে ব্যাট করে পুরো ইনিংস খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ, কিন্তু লিটন ছাড়া আর কেউ সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না। সাইফ হাসান ফেরার ম্যাচে বদলে যাওয়ার যে সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন, কাইল ক্লেইনের সোজা বলে বোল্ড হয়ে বুঝিয়ে দিলেন পুরোপুরি বদলে যাননি বছর তিনেকে। ১৪ বলে ৯ রান করা তাওহীদ হৃদয় নো-লুক শট খেলতে গিয়ে বল তুলে দিয়েছেন আকাশে।
লিটন দৃষ্টিনন্দন সব শট যেমন খেলেছেন, তেমনি বারবার ভাগ্যের ছোঁয়ায় জীবনও পেয়েছেন। অবশেষে আউট হয়েছেন আধডজন বাউন্ডারি আর একহালি ছক্কায় ৪৬ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলে। শামীম পাটোয়ারী ১১০ স্ট্রাইক রেটে ১৯ বলে করেছেন ২১, চার মেরেছেন মাত্র ১টা। নবম ওভারে নেমে ১৯ বলে ২১, ৪টা ডট বল আর মাত্র ১টা বাউন্ডারি... এমন ইনিংস দেখে জুলিয়ান উড হয়তো শামীমকে শেখানোর কথাই অস্বীকার করবেন! শেষবেলায় বছর তিনেক পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফেরা নুরুল হাসান সোহানের ১১ বলে ২২ নটআউট (২*৬) আর জাকের আলীর ১৩ বলে ২০ (১*৪, ১*৬) রানের ইনিংসে কিছুটা গতি ফেরে রান তোলায়। এরপর আবার নামে বৃষ্টি। ১৮.২ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬৪ রান তখন বাংলাদেশের। এরপর আর মাঠে খেলা গড়ায়নি, ফলে এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা পারলেন না ঠিকঠাক নিজেদের ঝালিয়ে নিতে।