জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আওয়মী লীগ নেতা মো. আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে এক বছর ধরে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে অদৃশ্য শক্তিতে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর হচ্ছে তার। এ ঘটনাটি শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসন জানলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক দিন আগে উপজেলার মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়। দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষক আখতার হোসেন আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ বাগিয়ে নেয়। এরপর থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে আখতার হোসেন পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। তারপর তিনি আর বিদ্যালয়ে আসেনি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগ নেতা আখতার হোসেন মাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় বর্তমানে বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সুলতান মাহমুদ একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান ভুঁইয়া জানান, গত ২৬ আগস্ট মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। একাডেমি সুপারভাইজার সেই দিন দেখিয়েছেন ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তার হাজিরা রয়েছে। শুনেছি তিনি চিকিৎসার ছুটি নিয়েছেন। তবে এ ধরনের কোনো কাগজ আমার কাছে নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অনেকদিন ধরেই উপজেলা শিক্ষা অফিসের কোন কাজে আসতে দেখি নাই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কক্ষটি বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা একটি কক্ষে বসে রয়েছেন। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে কোনো তথ্য বা কথা বলতে রাজি হয়নি সহকারী শিক্ষকেরা। একজন সহকারী শিক্ষক কথা বলতে চাইলেও অন্য শিক্ষকরা কথা বলতে বাঁধা দেন।’
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক পল্লী চিকিৎসক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আখতার হোসেন সহকারী শিক্ষক থেকে ক্ষমতার দাপটে জোরপূর্বক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হন। গত বছর সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে আখতার হোসেন পলাতক রয়েছেন। এরপর থেকে তিনি আর স্কুলে আসেন না। শুধু বলে মেডিকেল ছুটি। কতদিন মেডিকেল ছুটি লাগে তার। বিদ্যালয়ের দুরবস্থা তৈরি হয়েছে। কিছু রাজনৈতিক নেতারাও ওই শিক্ষকের সঙ্গে যোগ দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘অনেকদিন থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেনকে বিদ্যালয়ে আসতে দেখেন না। একজন প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তিনি আসেন না। তাই বিদ্যালয়ে শিক্ষার কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। এ বছর অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ফেল করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, আখতার হোসেন মেডিকেল ছুটিতে রয়েছেন। নিয়মের মধ্যেই রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, ‘এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে জানতে হবে।’