ছাত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই–৩৬ হলের ছাত্রীদের নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। 

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে বহিষ্কৃত ওই নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। দুপুরে তিনি নগরীর মতিহার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতার নাম আনিসুর রহমান মিলন। তিনি শাহ মখদুম হল শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তার ফেসবুক আইডি তার ‘নিয়ন্ত্রণে ছিল না’।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১১টার পর হলে ফেরায় জুলাই–৩৬ হলের ৯১ ছাত্রীকে তলব করে নোটিশ দেয় হল কর্তৃপক্ষ। 

নোটিশটির ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরে মঙ্গলবার সমালোচনার মুখে নোটিশটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ সময় ফেসবুকের একটি ফটোকার্ডে আনিসুর রহমান মিলনের আইডি থেকে ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পোস্ট করা হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতে ওই হলের ছাত্রীরা বিক্ষোভ করেন। এরপর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল তাঁর পদ স্থগিত করে এবং দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবারের বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কমিটি মিলনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন বন্ধ করে দেন। এতে প্রমাণিত হয়, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যটি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছেন। তাই তাঁকে বহিষ্কার করা হলো এবং সংগঠনের সব নেতা–কর্মীকে নির্দেশ দেওয়া হলো তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার জন্য।

অন্যদিকে থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, “কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্যের মাধ্যমে শুধু নারী শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আঘাত করা হয়নি, বরং সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। 

অভিযুক্তের এ কর্মকাণ্ড ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির প্রযোজ্য ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।”

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মালেক বলেন, “ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।”