জনতা পার্টি বাংলাদেশ'র নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন ও মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেছেন, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ও পৃথক করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায় একটি ঐতিহাসিক, সুনির্দিষ্ট এবং কার্যকর ও বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশক।
নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেছেন, তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা এই রায়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তারা বলেন, কালবিলম্ব না করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন অরাজনৈতিক সরকারের উচিত জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিচার বিভাগের ওপর সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করা।
বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো এই বহুল প্রত্যাশিত রায়ের পরও যথাযথ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠকগুলোতে বিচার বিভাগীয় সংস্কারের সুপারিশমালার প্রতি রাজনৈতিক নেতাদের তুলনামূলক উদাসীনতা লক্ষ্যনীয়।
নির্বাহী চেয়ারম্যান ও মহাসচিব উল্লেখ করেছেন, সংবিধানের ২২, ১০৭ ও ১০৯ অনুচ্ছেদ এবং মাসদার হোসেন মামলার রায়ের নির্দেশনা উদ্ধৃত করে হাইকোর্ট বলেছেন, পৃথক বিচার বিভাগ সাংবিধানিক অধিকার। ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব আরোপ করা হয়েছিল। পঞ্চম সংশোধনীতে বিচার বিভাগের সঙ্গে পরামর্শের বিধান সংযুক্ত করা হলেও, বাস্তবে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব ও দলবাজি প্রাধান্য পেয়েছিল।
নেতৃদ্বয় বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছেন, বিচারপতি নিয়োগ ও অধঃস্তন আদালতগুলোর ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ বৈষম্যমূলক বিচার ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছিল। ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় প্রধান বিচারপতিকে হেনস্থা করা, রায় পরিবর্তন করা, ভিন্ন মতের রাজনীতিকদের ওপর জুলুম এবং দলীয় বিচারকদের মাস্তানি রাষ্ট্রে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। এরপরও, উচ্চ আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে বিচার অঙ্গনে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন এবং বৈষম্যহীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় বিচার বিভাগেও প্রতিফলিত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। জনতা পার্টি বাংলাদেশ মনে করে, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য বিচারিক পরিমণ্ডলকেও যথাযথভাবে তৈরি করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, বিচার বিভাগ এখনো সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত বা স্বৈরাচারী প্রভাবমুক্ত নয়। বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা, স্বল্প ব্যয়ে বিচার নিশ্চিত করা এবং বিচার অঙ্গনকে হয়রানি মুক্ত করা জরুরি। সর্বোপরি, বিচার বিভাগীয় সংস্কারের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।