মেসির ২১ বছর আগের পাওনা ৫০ ডলার ফেরত দিতে চান আলভারাদো

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনায় শেষ অফিসিয়াল ম্যাচ ঘিরে দেশজুড়ে যখন আবেগঘন পরিবেশ, তখনই সামনে এলো এক মজার স্মৃতি। সাবেক ডিফেন্ডার পাবলো আলভারাদো জানিয়েছেন, প্রায় দুই দশক আগে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলার সময় তিনি মেসির কাছ থেকে ধার করা ৫০ ডলার আজও ফেরত দেননি।

ঘটনাটি ২০০৪ সালের জুনে। হুগো টোকালির অধীনে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দল প্রথমে প্যারাগুয়েকে ৮-০ গোলে হারায়। এরপর প্রস্তুতি ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে দলটি। বিদেশ সফরের জন্য প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দেওয়া হতো ৫০ ডলার। কিন্তু আলভারাদোকে দেওয়া হয় ১০০ ডলারের একটি নোট, যা মেসির সঙ্গে ভাগ করে নিতে হতো।

আলভারাদো সেই মুহূর্তের স্মৃতি টেনে বলেন, “আমি লিওর কাছে গিয়ে বলেছিলাম, আমার কাছে খুচরা নেই, তোমাকে পরে দেব। তখন মেসি হেসে বলেছিল, ‘'না না, কোনো সমস্যা নেই।’ এরপর আমি টাকাটা রেখে দিই। আমার জন্য সেটা কাজে লেগেছিল।”

এত বছর পরও বিষয়টি তার মনে কষ্ট দেয়। আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবল দল সান লরেঞ্জোয় খেলা পাবলো এখন ক্লাবটির রিজার্ভ দলের সহকারী কোচ। সংবাদমাধ্যমটিকে পাবলো জানিয়েছেন, তিনি এখন মেসিকে তাঁর পাওনা বুঝিয়ে দিতে চান। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আগামীকাল ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হতে পরিবার নিয়ে দেশে ফিরেছেন ইন্টার মায়ামি তারকা। এখন আর সুযোগটি হাতছাড়া করতে চান না পাবলো, “সে কোনোদিন টাকার কথা বলেনি। কিন্তু আমি নিজেকে দোষী মনে করি। এখনো আমার কাছে ওই নোটটা আছে। মেসির কাছে খুচরা থাকলে আমি ফেরত দিতে চাই।”

ঘটনাটি নতুন করে সামনে আসে সাংবাদিক এরিয়েল সেনোসিয়ানের লেখা Messi, the incomplete genius বইতে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলভারাদো নিজেই ব্যাখ্যা দেন কেন টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি—“আমার কাছে তখন দু’টি ৫০ ডলারের নোট ছিল না। ভেবেছিলাম পরে দেব, কিন্তু আর দেখা হয়নি।”

মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের শুরু নিয়ে আলভারাদোর আবেগমাখা মন্তব্য—“সে দেশের জার্সির প্রতি ভালোবাসা থেকেই খেলতে এসেছিল, বিনা পারিশ্রমিকে হলেও। আমি আশা করি, এই সম্পর্ক আরও অনেক দূর পর্যন্ত চলবে।”