খুলনায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলু নিজেই ব্রিজের ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিচে পড়ে যান বলে নৌ পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। তবে কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন সেটি উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
খুলনা নৌ পুলিশের এসপি ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সাংবাদিক বুলু নিজেই ব্রিজের ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিচে পড়ে যান। তবে কি কারণে তিনি ঝাঁপ দিয়েছেন তা এখনও পরিষ্কার না। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। অপমৃত্যু মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাংবাদিক বুলুর রূপসা ব্রিজ থেকে লাফিয়ে পড়ার দৃশ্য সম্বলিত ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, যে একজন লোক ব্রিজ থেকে লাফ দিচ্ছেন। কিন্তু ভিডিওটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে সাংবাদিক বুলুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে খুলনার সাংবাদিক সমাজ। বৃহস্পতিবার খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচিতে বক্তারা এ দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিক বুলু যদি আত্মহত্যা করেও থাকেন তাহলে কেন তিনি সেটি করলেন? আত্মহত্যার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে? কাদের চাপে তিনি আত্মহত্যা করলেন? বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। সম্প্রতি খুলনার নদ-নদীতে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা বাড়ছে। উদ্ধার হওয়া লাশ শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এমনি কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে সে রহস্যও উদঘাটন করতে পারছে না পুলিশ।
সাংবাদিকসহ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তসহ বিচার দাবি করে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক বুলু আত্মহত্যা করার মতো মানুষ নন। তাকে হত্যা করা হয়েছে অথবা আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। বুলুর লাশ উদ্ধার করার পর লবণচরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এ মামলার তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ। কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি তদন্ত চলছে ধীরগতিতে। আমাদের দাবি, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পিআইবি, র্যাব এবং সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যেন ছায়াতদন্ত করে নৌ-পুলিশকে সহযোগিতা করে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বুলুর মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে মনে করি আমরা।