গোয়ালন্দ দরবার শরিফে হামলা: নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নুরাল পাগলের দরবার শরিফ ও বাড়িতে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর এই হামলায় একজন নিহত এবং পুলিশ-প্রশাসনসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

জানা গেছে, জুমার নামাজ শেষে ‘ইমান আকিদা রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা নুরাল পাগলের দরবার শরিফের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করে।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, যাতে অন্তত ৫ পুলিশ সদস্য এবং দুইজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহত হন। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা দরবার শরিফে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। একপর্যায়ে নুরা পাগলের কবর খুঁড়ে মরদেহ বের করে পদ্মার মোড়ে এনে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এই হামলায় দরবার শরিফের অনুসারী মো. রাশেল মোল্লা (২৮) নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার কাকাতো ভাই ও জেলা ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আদনান নুর ইসলাম।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভাতে একাধিকবার চেষ্টা করেও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাহিদুর রহমান জানান, সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো যায়নি। তার গাড়ি এবং পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার পরও এই হামলার ঘটনা অপ্রত্যাশিত ছিল। হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন আহত রোগীকে আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৯ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট নুরাল পাগল মারা যান এবং তাকে দরবার প্রাঙ্গণে ১২ ফুট উঁচু বেদিতে দাফন করা হয়। এর পর থেকেই ‘ইমান আকিদা রক্ষা কমিটি’ কবর নিচু করা, রঙ পরিবর্তন এবং ‘ইমাম মেহেদি দরবার শরিফ’ লেখা সাইনবোর্ড অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল। শুক্রবার সকালে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় কিছু দাবি বাস্তবায়ন করা হলেও পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচী সহিংসতায় রূপ নেয়।

আলেম-ওলামাদের অভিযোগ ছিল, নুরাল পাগল নিজেকে ‘ইমাম মেহেদি’ দাবি করতেন এবং তাকে ইসলারি শরীয়ত পরিপন্থী উপায়ে দক্ষিণমুখী মাথা দিয়ে দাফন করা হয়েছিল। অন্যদিকে, দরবার শরিফের ভক্তরা দাবি করেন, তারা ইসলামের সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলেন।

বর্তমানে গোয়ালন্দজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।