গোলে মেসিকে ছাড়িয়ে রোনালদো, প্রয়াত জোটাকে উৎসর্গ

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর স্বপ্ন—রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলা। সেই যাত্রা শুরু হলো দারুণভাবে। আর্মেনিয়ার বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পর্তুগালের ৫-০ গোলের জয়ে দুটি গোল করেন তিনি। এক অর্ধে একটি করে গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি টেনে নেন ১৪০-এ।

তবে এদিনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল রোনালদোর গোল উদযাপন। জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক সতীর্থ দিয়োগো জোটা ও তার ভাই আন্দ্রে সিলভার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই শোকের ছায়াতেই আর্মেনিয়ার বিপক্ষে ছিল পর্তুগালের প্রথম ম্যাচ। জোয়াও ফেলিক্সের গোলে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর রোনালদো ২১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। গোল করার পর আকাশের দিকে হাত তুলে সেটি উৎসর্গ করেন প্রয়াত জোটাকে।

প্রয়াত দিয়োগো জোটাকে স্মরণ কীেন জোয়াও কানসেলো। ছবি : এক্স

২০১৯ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর লিভারপুল ফরোয়ার্ড জোটা খেলেছেন ৪৯ ম্যাচে, গোল করেছেন ১৪টি। রোনালদোর সঙ্গে ৩২ ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে তাদের জুটিতে এসেছে ৭ গোল। ২০২৪ সালের জুনে নেশনস লিগ জেতা পর্তুগাল দলে দু’জনই ছিলেন সতীর্থ। তাই রোনালদোর এই শ্রদ্ধা নিবেদন ছুঁয়ে যায় ভক্তদের হৃদয়।

ম্যাচে জোয়াও ফেলিক্স ও জোয়াও ক্যানসেলো দু’জনই করেন দুটি করে গোল। ক্যানসেলো তার একটি গোলের পর জোটার স্বাক্ষরিত ‘প্লেস্টেশন সেলিব্রেশন’ অনুকরণ করে প্রয়াত সতীর্থকে শ্রদ্ধা জানান।

জোটার শেষকৃত্যে যোগ না দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রোনালদো। তবে পর্তুগিজ গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, বাবার মৃত্যু নিয়ে অতীতের ব্যক্তিগত বেদনার কারণেই হয়তো তিনি সিদ্ধান্তটি নেন। যদিও মাঠে জোটার প্রতি তার আবেগী শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে বিষয়টি অন্য মাত্রা পেয়েছে।

মেসিকে ছাড়িয়ে রোনালদো

পর্তুগালের জয়ের চেয়েও এ ম্যাচ ঘিরে বেশি আলোচনা রোনালদোর মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়া নিয়ে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এত দিন সমান ৩৬ গোল ছিল দুজনের। আজ মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়া রোনালদোর গোল হয়ে গেছে ৩৮ টি। ৩৬ গোল করতে মেসির লেগেছে ৭২ ম্যাচ, আর রোনালদো ৩৮ গোল করেছেন ৪৮ ম্যাচে।

মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড থেকে আরও এক গোল দূরে রোনালদো। সব মহাদেশ মিলিয়ে সেই রেকর্ডটি কার্লোস রুইজের। ১৯৯৮ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত গুয়াতেমালার হয়ে খেলা রুইজ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৪৭ ম্যাচ খেলে করেছেন ৩৯ গোল।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডও বাছাইপর্বে শতভাগ জয় ধরে রেখেছে। ভিলা পার্কে আন্দোরাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে থমাস টুখেলের দল। গ্রুপ কে-এর অন্য ম্যাচে সার্বিয়া ১-০ গোলে হারিয়েছে লাতভিয়াকে।