আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের নীল কোর্টে শনিবার যেন নতুন করে জন্ম নিলেন আরিনা সাবালেঙ্কা। উইম্বলডনের হতাশা, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে হার সবকিছুর জবাব তিনি দিলেন নিউ ইয়র্কে, টানা দ্বিতীয়বার ইউএস ওপেন জয় করে। ফাইনালে আমেরিকারই আমান্ডা আনিসিমোভাকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-৩) গেমে হারালেন বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা।
২৭ বছর বয়সী সাবালেঙ্কার জন্য এটি ক্যারিয়ারের চতুর্থ গ্র্যান্ড সø্যাম ট্রফি। ২০১২ সালের পর তিনিই প্রথম নারী খেলোয়াড়, যিনি টানা দুই বছর ইউএস ওপেন জিতলেন। গতবার জেসিকা পেগুলাকে হারিয়েছিলেন; এবার আরেক আমেরিকান তারকাকে হারিয়ে লিখলেন নতুন ইতিহাস।
উইম্বলডনের সেমিতে আনিসিমোভার কাছে হারের তিক্ততা ভোলা হয়নি সাবালেঙ্কার। ফাইনালে সেই প্রতিদ্বন্দ্বীকেই হারানোর পর চোখে জল, হাতে মুখ ঢেকে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন তিনি। তখন পুরো স্টেডিয়াম করতালিতে ফেটে পড়ে। কোচিং বক্সে তার দলও উদযাপনে ফেটে পড়ে।
এই জয়ে সাবালেঙ্কা পৌঁছে গেলেন গ্র্যান্ড সø্যামে ১০০ ম্যাচজয়ের মাইলফলকে। দীর্ঘদিনের সমালোচনা ছিল বড় মঞ্চে চাপ সামলাতে পারেন না, আবেগ তাকে ভেঙে দেয়। কিন্তু এবার তিনি নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন। ম্যাচের মাঝপথে একটি সহজ স্ম্যাশ নেটে ফেলে দেওয়ার পরও ভেঙে পড়েননি, বরং শান্ত থেকে খেলাটি নিজের করে নিলেন।
২৪ বছর বয়সী আনিসিমোভা তার প্রথম ইউএস ওপেন ফাইনালে উঠে স্বপ্ন দেখছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড সø্যামের। কোয়ার্টার ফাইনালে ইগা সোয়াতেককে হারিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছিলেন, সেমিফাইনালে হারিয়েছিলেন নাওমি ওসাকাকে। কিন্তু ফাইনালে অভিজ্ঞ সাবালেঙ্কার বিপক্ষে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি।
তার শক্তিশালী ফোরহ্যান্ড বেশ কিছু মুহূর্তে সাবালেঙ্কাকে চাপে ফেললেও ২৯টি অনিচ্ছাকৃত ভুল সব অর্জনকে মøান করে দেয়। দ্বিতীয় সেটে ৬-৫ এগিয়েও টাইব্রেকার এড়াতে পারলেন না। আর টাইব্রেকারের নামই যেন সাবালেঙ্কার রাজত্ব এ বছর এ নিয়ে ১৯টি টাইব্রেক জিতলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ফ্রেঞ্চ ওপেনে হারের পর সাবালেঙ্কা স্বীকার করেছিলেন, আবেগ তাকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছিল। শনিবার ফাইনাল জয়ের পর বলেছেন, ‘এবার আমি ঠিক করেছিলাম আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করব, ওকে আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে দেব না।’