নেপাল জেন-জির বিবৃতি

সুবিধাবাদীরা আমাদের আন্দোলন হাইজ্যাক করেছে

মাত্র ৩৬ ঘণ্টার জেনারেশন জেড (জেন জি) আন্দোলনের জেরে নেপালে সরকার পরিবর্তনের পর হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের দায় এড়ালো নবীন প্রজন্ম। হিমালয়ের পাদদেশে ছবির মতো সুন্দর এই ক্ষুদ্র দেশটির সড়কে এখন সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। তবুও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ হিংসায় রূপ নিচ্ছে। 

এত কিছুর পরও ‘জেন জি’ গোষ্ঠীর দাবি, গত দুদিন ধরে চলা ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড, লুটতরাজের মতো ধ্বংসাত্মক কাজের সঙ্গে তাদের আন্দোলনকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের অভিযোগ, বাইরে থেকে ঢুকে পড়া সুবিধাবাদী গোষ্ঠী জেন জি’র মুখে কালিমা লেপনে এই হিংসা চালাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সুবিধাবাদীরা তাদের আন্দোলনকে হাইজ্যাকের চেষ্টা করছে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তবে ঘর ও গাড়ি থেকে উঠে আসা নিভন্ত আগুনের ধোঁয়া এখনও শহরের আকাশ ঢেকে রেখেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেনাবাহিনী কারফিউ জারি রেখেছে। হিংসা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের লুট করা আগ্নেয়াস্ত্র অবিলম্বে ফেরত দিতে বলা হয়েছে। এত কিছুর মধ্যেও প্রতিবাদকারীদের জোর দাবি, এই কাজগুলোতে বাইরের লোকজন জড়িত।

প্রতিবাদকারীরা এক বিবৃতিতে বলেছে, নেপালের জেনারেশন জেড এই আন্দোলন শুরু করেছিল। আমাদের দাবি ছিল স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্য সরকার গঠন ও দুর্নীতির অবসান। আমাদের আন্দোলন ছিল অহিংস ও শান্তিপূর্ণ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমরা খুবই দায়িত্বশীলভাবে নজর রেখেছিলাম যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, নাগরিকদের সুরক্ষা বজায় থাকে এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি না হয়।

গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আজ বুধবার তাদের কোনো কর্মসূচি নেই এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশ ইচ্ছেমতো কারফিউ জারি করতে পারে। সেনাবাহিনীও তাদের বক্তব্যকে সমর্থন করে জানায়, বিভিন্ন ব্যক্তি ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী শক্তি আন্দোলনের ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। যারা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও অস্ত্র লুট করেছে।

প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার মুখে জেন জি বিক্ষোভকারীরা বিবৃতিতে বেশ কিছু রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবি তুলে ধরে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো, গত তিন দশক ধরে রাজনীতিকরা দেশের যে সম্পদ ও অর্থ লুট করেছেন, তার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনে নিহতদের শহিদ ঘোষণা এবং মৃতদের পরিবারের হাতে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি তুলে দিতে হবে। এছাড়াও তারা বেকারত্ব দূরীকরণ, পরিযায়ী নেপালি রোধ এবং সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই আন্দোলন কোনো দল বা ব্যক্তির জন্য নয়, বরং গোটা নবীন প্রজন্ম এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য। তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে শান্তি বজায় রাখা একমাত্র সম্ভব নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত রচনার মাধ্যমে। তাদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো:

  • চলতি সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন সরকার গঠন করা।
  • নাগরিক, বিশেষজ্ঞ ও যুব সম্প্রদায়কে নিয়ে একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন অথবা নতুন করে সংবিধান রচনা করা।
  • একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্বাধীন, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করা।
  • সরাসরি নির্বাচিত একটি প্রশাসনিক কর্তৃত্ব গঠন করা।
  • জাতীয় সম্পত্তি লুট করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা।
  • শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচারবিভাগ, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা- এই মৌলিক পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কার ও পুনর্গঠন করা।