জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের সময় ১৫ নম্বর ছাত্রী হলে ভোট নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসানসহ সংগঠনের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী হঠাৎ হলে প্রবেশ করে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় হলে তীব্র হট্টগোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভোট দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া অমোচনীয় কালি মুছে যাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা হলে কর্তৃপক্ষকে জানালে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। নতুন কালি না আসা পর্যন্ত ভোট স্থগিত থাকে। ঠিক সেই সময়েই শেখ সাদী হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রদল নেতা অনুমতি ছাড়াই হলে ঢুকে পড়েন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলামও। তারা অভিযোগ করেন, হলে কারচুপি চলছে।
হলের শিক্ষার্থীরা তখন তাদের উপস্থিতির কারণ জানতে চান এবং বাইরে চলে যেতে অনুরোধ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং দ্রুত হট্টগোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক শামীমা নাসরীন জলি এসে শেখ সাদী হাসানসহ উপস্থিত অন্যদের হল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
এই সময় এক সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করলে বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জিসান তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকায় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হল থেকে বের হয়ে আসেন।
এ বিষয়ে জিসান বলেন, “এই হলে ভোট জালিয়াতির খবর পেয়ে আমরা বিষয়টি দেখতে আসি।” অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, “আমরা অনেকের সঙ্গে একসাথে ভেতরে ঢুকেছি, গেটে আমাকে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করেনি।”
অন্যদিকে ১৫ নম্বর ছাত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ শামীমা নাসরীন জলি জানান, “ভোটারদের হাতে দেওয়া অমোচনীয় কালি মুছে যাচ্ছিল বলে আমরা সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখি। নতুন কালি এলে ভোট আবার শুরু হবে। কিন্তু অনুমতি ছাড়া কয়েকজন ভেতরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। ভোট জালিয়াতির কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
বিস্তারিত ভিডিওতে...