সরকারের রোষানলে পড়ে সপরিবারে দেশ ছাড়লেন জকোভিচ

সার্বিয়ান টেনিস তারকা এবং ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ অবশেষে নিজ দেশ ছাড়লেন। সার্বিয়ান সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর পরিবার-পরিজনকে নিয়ে তিনি গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন।

গ্রিসের শীর্ষ গণমাধ্যম ‘প্রোটো থেমা’-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচ এথেন্সের দক্ষিণ উপকূলবর্তী অভিজাত এলাকা গ্লাইফাদায় একটি বাড়ি কিনেছেন। তার দুই সন্তান (বয়স ১১ ও ৮) ইতোমধ্যেই স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবং নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে জোকোভিচকে, যেখানে ভক্তরা তার অটোগ্রাফ ও সেলফি তুলতে ভিড় জমাচ্ছেন।

সার্বিয়ান মহাতারকা ইতোমধ্যে গ্লাইফাদার কাছেই অবস্থিত কাভৌরি ক্লাবের কোর্টে অনুশীলন করেছেন এবং এথেন্সে নিজস্ব একটি টেনিস একাডেমি খোলার পরিকল্পনাও করছেন। ব্যক্তিগত অনুশীলনের জন্য শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘তাতোই ক্লাব’কে তিনি বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জোকোভিচের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ সরকারের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নভি সাদের একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। জোকোভিচ ওই বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে সমর্থন জানান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন নির্বাচনের দাবিতে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান।

এই কারণে প্রেসিডেন্ট ভুচিচের ঘনিষ্ঠ মহল তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেয়। চলতি বছরের মার্চে বেলগ্রেডে যখন তিন লাখেরও বেশি মানুষ রাজপথে নেমে আসে, তখন জোকোভিচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি পোস্ট করে একে ‘ঐতিহাসিক ও অনন্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জোকোভিচ ইতোমধ্যেই ‘গোল্ডেন ভিসা’ বা স্থায়ী বসবাসের জন্য বিনিয়োগভিত্তিক অনুমতিপত্রের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন।

গ্রিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, জকোভিচ সম্প্রতি দুই বার গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী সপ্তাহের শেষে এথেন্সের ওএকা স্টেডিয়ামে গ্রিস বনাম ব্রাজিল ডেভিস কাপ ম্যাচে জকোভিচের উপস্থিত থাকার কথা আছে। পাশাপাশি তিনি ২-৮ নভেম্বর এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য এটিপি ২৫০ টুর্নামেন্টেও অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।