ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলা এবং অবরোধের কারণে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত বাহাত্তর জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে আরও সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশু।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় চৌষট্টি হাজার সাত শত আঠারো জনে। কেবল গত একদিনে হাসপাতালে পৌঁছেছে বাহাত্তর জনের মরদেহ এবং আহত হয়েছেন তিন শত ছাপ্পান্ন জন। বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় পড়ে থাকা বহু মৃতদেহ উদ্ধারকর্মীরা তুলতে পারছেন না।
ত্রাণ সংগ্রহের সময়ও চলছে রক্তপাত। গত ২৪ ঘণ্টায় ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে নয় জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং অন্তত সাতাশি জন আহত। এ নিয়ে গত মে মাসের সাতাশ তারিখ থেকে ত্রাণ নেওয়ার সময় গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই হাজার চার শত পঁয়ষট্টি, আহত হয়েছেন প্রায় সতেরো হাজার নয় শত আটচল্লিশ জন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বৃহস্পতিবারের সাতটি অনাহারে মৃত্যুর মধ্যে একজন শিশু। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কেবল দুর্ভিক্ষে প্রাণ হারিয়েছেন চার শত এগারো জন, যার মধ্যে শিশু একশো বিয়াল্লিশ জন। জাতিসংঘের সহায়তায় গঠিত ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসি গত মাসে গাজাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষাক্রান্ত অঞ্চল ঘোষণা করেছে। তারপর থেকে এক মাসে অনাহারে মারা গেছেন অন্তত একশো তেত্রিশ জন, এদের মধ্যে শিশু সাতাশ জন।
ইসরাইল চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকে গাজার সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে প্রায় চব্বিশ লাখ মানুষের এ অঞ্চল ভয়াবহ খাদ্যঘাটতিতে নিমজ্জিত। ১৮ মার্চ থেকে যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরাইলের নতুন করে চালানো হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় বারো হাজার এক শত সত্তর জন নিহত এবং আহত হয়েছেন অন্তত একান্ন হাজার আট শত আঠারো জন।