সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্ধারিত জায়গা থেকে বালুদস্যুরা রাতের আঁধারে দেশীয় ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন। এরপর শাহজাদপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও মোড় প্রদক্ষিণ করে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা এই অবৈধ বালুদস্যু চক্রের হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এরপর তারা শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শাহজাদপুর থানার ওসিকে পৃথকভাবে স্মারকলিপি দেন।
উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মিরাজ আহমেদ, জাকারিয়া জিহাদ, রায়হান আলী প্রমুখ। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র হয়েছে। যা এখনও চলমান রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বালুদস্যুরা অবৈধভাবে রবির স্থায়ী ক্যাম্পাস এরিয়া থেকে রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে।
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং এর সঙ্গে জড়িত দোষীদের ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও শাহজাদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে বিক্ষোভ মিছিল, স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আসলাম আলী বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি জিডি করেছেন ও শিক্ষার্থীরা স্বারকলিপি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সকালে জানার পর ঘটনাস্থলে এসিল্যান্ডকে পাঠানো হয়। তিনি গিয়ে রাতে উত্তোলনকৃত বালু আনলোডের সময় একজন কর্মচারীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। মূলহোতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির প্রদানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।