মহাসড়কে ক্লাস করলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০০ শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৫, ০৮:৫৫ পিএম

স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে দ্রুত ডিপিপি অনুমোদনের দাবিতে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে ক্লাস করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সমস্ত ডিসিপ্লিন মেনে ক্লাসরুমের আদলে ক্লান্তিহীনভাবে ক্লাস নিয়েছেন শিক্ষকরা।

এই ব্যতিক্রম পাঠদানের ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে।

একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা এ সময় সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন দাঁড়িয়ে দাবি আদায়ের লক্ষে অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি দেখেন। ক্লাস শেষে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

এতে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী তাইবুর রহমান, আমরাজ হোসেন, বায়জিদ হোসেন, আব্দুল আজিজ, মোন্নাফ হোসেন, লুৎফর রাহমান, সাকিব আল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ইয়াতসিংহ শুভ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আজিম উদ্ধিন, সহকারী রেজিস্ট্রার শেখ আল মাসুদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, গত নয় বছরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ৫১৯ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার ডিপিপি গত ২৭ জুলাইসহ মোট ৪টি একনেক সভায় অনুমোদন হয়নি। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা বাদে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সকল উপদেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে নীতিগত অনুমোদন দিলেও একজন উপদেষ্টার কারণে এখনও পর্যন্ত আর একনেকের সভার এজেন্ডাভুক্ত হচ্ছে না। তিনি হলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি এটাকে বাঁধা দিয়ে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখতে চাইলেন। সে অনুযায়ী তিনি গত ১৬ জুন শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রামকান্তপুর মৌজার বুড়ি পোতাজিয়ায় সরেজমিনে গিয়ে ক্যাম্পাসের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং ফিরে গিয়ে এ সংক্রান্ত লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন। সবার ধারণা পরিবেশের দোহাই দিয়ে এ সংক্রান্ত ফাইলটি তিনি নিজ স্বার্থে আটকে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এম হাসান তালুকদার এক সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর হলো বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্ন কলেজের ভাড়া ভবনে আতি কষ্টে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ চলছে। যা অত্যন্ত বেদনার ও দুঃখজনক। শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যলয়ের স্বাদ পাচ্ছে না। আবার উন্মুক্ত পরিবেশের মধ্যে দিয়ে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা পাঠ গ্রহণের সুবিধা পাচ্ছে না। ফলে তাদের মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি সরকারকে বলেন, হয় দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন, না হয় বিশ্ববিদ্যালটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। এখন আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা সড়কে আন্দোলন করছে। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবে না বলে তারা ঘোষণা দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত