যুবাদের প্রস্তুতি মালয়েশিয়ায়

কড়া নাড়ছে যুব হকি বিশ্বকাপ। ২৮ নভেম্বর ভারতে বসতে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব-২১ বয়সিদের বিশ্ব আসর। এই আসরে প্রথমবারের মতো খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ যুব হকি দল। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ নিশ্চিত হলেও বাংলাদেশ একটু দেরিতেই শুরু করেছে প্রস্তুতি। তবে হাতে থাকা সময়টুকুর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে চাচ্ছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দলটিকে পাকিস্তানে পাঠানোর প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল ফেডারেশন। তবে পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিতে যাবে মালয়েশিয়ায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘আমরা শুরুতে পাকিস্তান নিয়ে পরিকল্পনা করছিলাম। তবে পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের অন্য পরিকল্পনা থাকায় সেখানে যাওয়া হচ্ছে না। তাই আমরাও পরিকল্পনা বদলেছি। এই মাসের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়া অ-২১ দলের সঙ্গে তাদের দেশে কমপক্ষে চারটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে পাকিস্তান-মালয়েশিয়া সমশক্তির দল। ফলে প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকবে না।’

মালয়েশিয়া সফর থেকে ফেরার পর দলকে ইউরোপে পাঠানোর পরিকল্পনা আছে ফেডারেশনের। ইতিমধ্যে তিনটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ফেডারেশন। রিয়াজুল বলেন, ‘ইউরোপের দেশগুলো অনেক বেশি পেশাদার। তারা অনেকগুলো মানদ- মেনে চলে। তারপরও আমরা সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। এই মাসের শেষে ইউরোপ সফর চূড়ান্ত হবে বলে আশাবাদী আমরা। ইউরোপে জাতীয় দল এবং ক্লাব দলের বিপক্ষে যত বেশি সংখ্যক ম্যাচ খেলা যাবে ততই মঙ্গল।’

এদিকে আগামীকাল দলের প্রস্তুতির অগ্রগতি জানাতে সংবাদ সম্মেলন করবেন অনূর্ধ্ব-২১ দলের ডাচ কোচ সেগফ্রিড আইকম্যান। এই ডাচ ভদ্রলোক এ মাসের শুরু থেকে কাজ করছেন দল নিয়ে। তার অধীনে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে প্রতিদিন দুই বেলা করে অনুশীলন চলছে। প্রাথমিকভাবে ৪০ জন নিয়ে দুই স্থানীয় কোচ মশিউর রহমান বিপ্লব ও আশিকুজ্জামান ক্যাম্প শুরু করলেও এখন সংখ্যাটা ২৬ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই ২৬ জনের জন্যই মালয়েশিয়ার ভিসা আবেদন করেছে ফেডারেশন।

যুবাদের মতো বাংলাদেশ সিনিয়র দলের সামনেও বিশ্বকাপে খেলার হাতছানি। তবে স্বপ্নটা সত্যি করতে অসম্ভবকে সম্ভবে রূপ নিতে হবে। ভারতে অনুষ্ঠিত সদ্যসমাপ্ত এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ষষ্ঠ হয়ে সুযোগ পেয়েছে বিশ্বকাপের প্লে-অফ খেলার। সেই প্লে-অফে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী পাকিস্তান। তিন ম্যাচে প্লে-অফ সিরিজ জিততে পারলে বাংলাদেশ সুযোগ পাবে চূড়ান্ত বাছাইপর্ব খেলার। এই তিনটি ম্যাচই নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশকে আয়োজন করতে হবে এবং সব খরচও বহন করতে হবে তাদের। ফেডারেশন সম্পাদক বলেন, ‘আম্পায়ার, এএইচএফ কর্মকর্তা, পাকিস্তানের স্থানীয় ব্যয় নাকি আমাদেরই বহন করতে হবে। এএইচএফের এমনটাই ভাষ্য। এখন কষ্ট করে হলেও আমাদের এটা করতেই হবে। না হলে পাকিস্তান বাছাইয়ে চলে যাবে।’

সিনিয়রদের বিশ্বকাপ সুদূর কল্পনা। তবে যুবাদের সুযোগ বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার। ভারতের তামিলনাড়তে আসরের পুল এফ-এ পড়েছে বাংলাদেশ। এই পুলে আরও আছে ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া। ২৯ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ যুবদল।