বরগুনার আমতলী উপজেলায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি (ওএমএস) অনুযায়ী চাল বিতরণে ওজনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ যাচাই করতে সোমবার বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে এশিয়ান টেলিভিশন ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
গুলিশাখালি ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে চাল বিক্রির দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান ডিলার মো. ইলিয়াস মিয়া, তবে প্রকৃত ব্যবস্থাপনা করছিলেন তার বাবা এবং সাবেক ডিলার গোলাম মস্তোফা শরিফ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিশেষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজিতে ১৫ টাকায় চাল বিক্রি করার জন্য মো. ইলিয়াস মিয়াকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ইলিয়াস মিয়া নিজের নামে ডিলারশিপ না পেয়ে ছেলের নামে নিয়োগ আনে এবং স্বয়ং তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সুবিধাভোগীরা জানান, প্রতি ৩০ কেজির চালের বস্তায় ১–২ কেজি কম দেওয়া হয়।
একাধিক সুবিধাভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, বছরের পর বছর চাল দিয়ে আসছি। যেমন দেয়, তেমনি নিয়ে যাই। কিছু বললেও কিছু হয় না। মস্তোফা শরিফের ক্ষমতা অনেক; তার ভাই সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
আজ বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে জনৈক এক কার্ডধারী ব্যক্তি সরকারি ৪ বস্তা চাল বিক্রি করার কথা বলে ডিলারের কাছে নিয়ে যান। নগদে একটি বস্তা প্রদান কথা বলে, বাকি তিন বস্তা পরে দেওয়ার কথা বলা হয়। সাংবাদিকের চাপে ওজন যাচাই করতে চাইলে সাবেক ডিলার ও বর্তমান ডিলারের বাবা ক্ষেপে যান এবং বলেন, ‘চাউল ঠিক নাই! হইবে কি এহন, আপনি গিয়ে টিইউনওর কাছে জবাব দিহিতা করেন।’ পরে ৩০ কেজির চারটি বস্তার ওজন দেখা যায়, প্রত্যেকটিতে ২৯ কেজি চাল পাওয়া যায়।
ডিলার ইলিয়াস মিয়ার মোট কার্ড সংখ্যা ৫৪৫ জন সুবিধাভোগীর জন্য। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, ‘প্রতিজন থেকে ১ কেজি কম দিলে ৫৪৫ কেজি চাল কোথায় যায়?’ গুঞ্জন আছে, এসব চাল গুদাম থেকে বিক্রি হয় বা বাইরে পাড়ি দেয় ডিলাররা।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোসা. শারমিন জাহান বলেন, ‘আপনি অফিসে আসেন, আপনার সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলিয়ে দেবো। চাল কম দেয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাল ওঠা-নামানোর সময় সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান মন্তব্য করেন, ‘অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। ৩০ কেজির চাল কম দেওয়া যাবে না। যদি কেউ কম দেয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুবিধাভোগীরা চান, সরকারি চাল নির্ধারিত ওজন এবং মূল্যে তাদের হাতে পৌঁছুক এবং চাল বিতরণে যে কোনো অনিয়ম বন্ধ হোক।