পাঁচ রক্ষণ কৌশলে যুবাদের প্রস্তুতি

পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে ডাচ কোচ সেগফ্রাইড আইকম্যানের অধীনে জুনিয়র হকি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদশ অনূর্ধ্ব-২১ দল। দুই সপ্তাহ শিষ্যদের কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা জানাতে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বসেছিলেন ৬৬ বছর বয়সী কোচ। ৪০ জন থেকে সংখ্যাটা ২৬-এ নামিয়ে এনে মূলত কাজ করছেন অভিজ্ঞ কোচ। প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতার দিকগুলো ভাবনায় রেখে কোচ পাঁচ কৌশলে শিষ্যদের প্রস্তুত করছেন ডিসেম্বরে ভারতের তামিলনাড়ুতে বসতে যাওয়া যুবাদের বিশ্বকাপের জন্য।

আইকম্যান দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই অবশ্য মাঠে আছেন খেলোয়াড়রা। স্থানীয় কোচ মশিউর রহমান বিপ্লব ও আশিকুজ্জামানের অধীনে মূলত ফিটনেস নিয়ে কাজ হয়েছে। একেবারে বিশ্বমানের না হলেও ফিটনেস সীমা যতটুকু তা নিয়েই বড় পরীক্ষার জন্য দলকে প্রস্তুত করার কথা বলেছেন আইকম্যান।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে খেলতে হবে এফ গ্রুপে। যেখানে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে। প্রতিপক্ষরা সবাই এগিয়ে থাকায় ঘর সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ। তাই আইকম্যান চাইছেন, জমাট একটা রক্ষণ গড়ে তুলতে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা দৈহিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী বাংলাদেশিদের তুলনায়। কোচ বলেন, ‘ওরা দীর্ঘকায় ও গতিসম্পন্ন। আমাদের খেলোয়াড়রা যখন দুই স্টেপ দেবে, তখন ওরা এক স্টেপেই সমান জায়গা অতিক্রম করবে। তাই আমাদের বিশেষভাবে তৈরি হতে হবে। এ রকম কিছু ফিটনেস ট্রেনিং আমরা করছি যার ফলে আমরা বেশি সময় বল নিয়ে দৌড়াতে পারি। আমি খুশি যে এই বিশেষ ট্রেনিংয়ের সঙ্গে ছেলেরা ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। তারা হাঁপিয়ে উঠছে না। এ ভাবেই দলকে প্রস্তুত করে আমরা ভারতে যেতে চাই, যাতে সেখানে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারি। আমরা এখন কঠোর পরিশ্রম করছি রক্ষণভাগ নিয়ে। এখানে আমাদের দুর্বলতা আছে। বেশি গোল হজমের একটা প্রবণতা আছে। আমি শেখাতে চাচ্ছি কীভাবে বল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পাঁচটি মূল রক্ষণ কৌশল নিয়ে কাজ করছি টাইমিং, ফুটওয়ার্ক, প্রেসিং, ভিন্ন গতিতে খেলা এবং দুদিক দিয়ে রক্ষণ নিরেট রাখা।’

বাংলাদেশ দলের পাকিস্তানে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে ভিন্ন চিন্তা থাকায় বিকল্প খুঁজতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এখন তারা মালয়েশিয়ায় যাবে সে দেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে কমপক্ষে চারটি ম্যাচ খেলতে। এরপর ইউরোপেও দুটি দেশে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ হবে যুবাদের। আইকম্যান মনে করেন এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো বিশ্বকাপের আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, ‘মালয়েশিয়ার যুব দলটা বেশ শক্তিশালী। পাকিস্তানের মতোই। এই সফরটা আমাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচের আগে। কারণ মালয়েশিয়াও এশিয়ার দল। কোরিয়ার সঙ্গে তাদের খেলার মিল রয়েছে। তাছাড়া সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায়ও খেলার সুযোগ রয়েছে। বড় মঞ্চে প্রবল প্রতিপক্ষদের মোকাবিলার আগে ইউরোপের ম্যাচগুলো কাজে দেবে। নইলে পারফরম্যান্সে ধস নামতে পারে।’

২৯ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান। পরের দিন তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। আর ২ ডিসেম্বর ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।