স্ত্রীর দাবি কারাগারে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল নাভালনিকে

পুতিনের অন্যতম বিরোধী ও সমালোচক আলেক্সি নাভালনিকে কারাগারে মৃত্যুর আগে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষায় এমনটা জানা গেছে বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী নাভালনায়া।

বুধবার সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক ভিডিওতে ইউলিয়া নাভালনায়া এ দাবি করেন। পোস্টে তিনি তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন।

নাভালনায়া জানান, তার স্বামীর দাফনের আগে তার সহযোগীরা ‘আলেক্সেইয়ের জৈবিক নমুনা সংগ্রহ করে নিরাপদে বিদেশে পাঠাতে সক্ষম হয়েছিলেন।’ পরে এগুলো দুটি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, এই দুটি ভিন্ন দেশের ল্যাব একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে নাভালনিকে হত্যা করা হয়েছে। আরও নির্দিষ্টভাবে বললে, তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

নাভালনায়া নমুনা বা পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেননি, তবে তিনি ল্যাবরেটরিগুলোকে এই ‘অপ্রিয় সত্য’ প্রকাশের আহ্বান জানান।

Navalnaya

তবে ক্রেমলিন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তারা সবসময় নাভালনির মৃত্যুর সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে আসছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, তিনি ইয়ামালো-নেনেত্স অঞ্চলের খারপে অবস্থিত আইকে-৩ দণ্ডশিবিরে হাঁটার সময় হঠাৎ মারা যান।

রুশ তদন্তকারীরা দাবি করেছে, বিরোধী নেতার মৃত্যু ‘বিভিন্ন রোগের সমন্বিত প্রভাবে’ ঘটেছে। তবে নাভালনায়া এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০১০ সালের আগস্টে নাভালনিকে রাশিয়ায় বিষ প্রয়োগ করা হয় এবং পরে তাকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হয়। জার্মান কর্মকর্তারা তখন নিশ্চিত করেছিলেন যে তাকে নোভিচক নামক নার্ভ এজেন্ট দিয়ে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

সে সময়কার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল বলেছিলেন, ‘এখানে গুরুতর কিছু প্রশ্ন রয়েছে, যার জবাব কেবল রুশ সরকারই দিতে পারে এবং দিতে হবে।’ ক্রেমলিন অবশ্য সবসময় নাভালনির অসুস্থতার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

সুস্থ হওয়ার পর নাভালনি রাশিয়ায় ফিরে আসেন, যেখানে বিমানবন্দরে নামার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন—যার মধ্যে প্রতারণা ও ‘চরমপন্থা’র অভিযোগও ছিল। নাভালনি ও তার সমর্থকেরা সবসময়ই বলেছেন, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

২০২২ সালের ২২ মার্চ লেখা তার স্মৃতিকথা প্যাট্রিয়টে (যা মৃত্যুর পর গত অক্টোবরে প্রকাশিত হয়) নাভালনি লিখেছিলেন, তিনি কারাগারে মারা যাওয়ার সম্ভাবনাকে মেনে নিয়েছেন।

তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি জীবনের বাকি সময়টা কারাগারেই কাটাব এবং এখানেই মারা যাব। আমার সঙ্গে বিদায় জানানোর কেউ থাকবে না... সব বার্ষিকী আমার অনুপস্থিতিতেই পালিত হবে। আমি কখনো আমার নাতি-নাতনিদের দেখতে পাব না।’

তার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, পুতিনের শাসন—যা ‘শুধুই মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে’—একদিন ভেঙে পড়বেই।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার কুখ্যাত কারাগার হিসেবে পরিচিত আর্কটিক পেনাল কলোনিগুলোর একটিতে মারা যান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে কট্টর সমালোচক নাভালনি। মৃত্যুর আগে রাশিয়ার একটি আদালত তাকে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। গত বছরের শেষের দিকে নাভালনিকে আর্কটিক পেনালকলোনিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল।