জমকালো, কড়া নিরাপত্তা, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং বিক্ষোভের পরিবেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজা চার্লস এবং অন্যান্য ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যরা বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান।
সফরের শুরুতে ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া উইন্ডসর ক্যাসেলে পৌঁছান—যা বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো এবং এখনও ব্যবহৃত দুর্গ। প্রায় এক হাজার বছর ধরে ব্রিটিশ রাজাদের পারিবারিক নিবাস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে দুর্গটি। এখানে তাকে স্বাগত জানান রাজা চার্লস, তার স্ত্রী রানি ক্যামিলা, উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম এবং তার স্ত্রী কেট। এরপর দুর্গ প্রাঙ্গণে একটি রথযাত্রা হয়।
মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, গুগল এবং ওপেনএআইসহ বিভিন্ন কোম্পানি ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যে আগামী কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং সিভিল নিউক্লিয়ার এনার্জিতে ৩১ বিলিয়ন পাউন্ড (৪২ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার আরও বাণিজ্য অগ্রগতির প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের সঙ্গে করা প্রথম শুল্ক হ্রাসের চুক্তির পর। আলোচনায় ইস্পাত, হুইস্কি এবং স্যামনের ওপর অবশিষ্ট শুল্ক নিয়েও কথা হতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
হোয়াইট হাউস থেকে ব্রিটেনে যাত্রার আগে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা দেখতে চায় আমরা বাণিজ্য চুক্তিটা আরেকটু পরিমার্জন করতে পারি কি না।’
তবে স্টার্মার যেখানেই ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে রাজকীয় আকর্ষণের ওপর ভরসা রাখছেন—বিশেষ করে ট্রাম্পের মা স্কটল্যান্ডের হওয়ায় তিনি নিজেকে অ্যাংলোপ্রেমী বলেন—তবুও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর জন্য অনেক ঝুঁকি রয়ে গেছে।
জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটেনে ট্রাম্প জনপ্রিয় নন। একই সঙ্গে স্টার্মার নিজেও অর্থনৈতিক সংকট ও জনপ্রিয়তার ধসের মুখে রয়েছেন। তাই তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তার এই ‘রাজকীয় তাস’ সত্যিই সুফল দিতে পারে।