কুমিল্লার দেবীদ্বারে নিখোঁজের এক মাস পর শ্বশুরবাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে করিম ভূঁইয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত করিম ভূঁইয়া একই উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের মন্ত্রীবাড়ি এলাকার মৃত আবুল কাশেম ভূঁইয়ার ছেলে। মরদেহ উদ্ধারের পর করিম ভূঁইয়ার স্ত্রী, দুই ছেলে তৌহিদ হোসেন ভূঁইয়া ও তামজিদ হোসেন ভূঁইয়াসহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৩ আগস্ট সকাল থেকে করিম ভূঁইয়া নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তার দুই ছেলে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ ও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাবার সন্ধান চান তারা। তবে দীর্ঘ এক মাসেও কোনো খোঁজ মেলেনি।
এলাকার লোকজনের ধারণা, জমি বিক্রি করে ছেলেদের বিদেশে পাঠাতে স্ত্রী ও সন্তানরা করিমকে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি এতে রাজি ছিলেন না। এ বিরোধ থেকেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয়রা আরও জানান, নিখোঁজের কয়েকদিন আগে করিম ভূঁইয়ার শ্যালককে রাতে বোনের বাড়ি থেকে বস্তায় ভরা কিছু সরাতে দেখেছিলেন প্রতিবেশীরা।
বুধবার রাতে টয়লেটের ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে ট্যাংক খোলা হলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি গলিত মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তদন্তের স্বার্থে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।