রাজধানী ঢাকায় আত্মগোপনে থেকে ঝটিকা মিছিল ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতা শাহেদ আলী (২১) এবং আওয়ামী লীগ নেতা জামাল পাশাকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে গতকাল বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা শাহেদ আলী জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতা জামাল পাশা শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। এছাড়া তিনি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে যায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেদ আলী। এ ছাত্রলীগ নেতা শাহেদ আত্মগোপনে থেকে বর্তমান সরকার ও প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিজস্ব আইডি থেকে অপহরণের নাটক সাজিয়ে তার নিজের চোখ বাঁধা এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এমন ভিডিও ছড়িয়ে দেয়।
এছাড়াও ওই দুই নেতা রাজধানী ঢাকায় আত্মগোপনে থেকে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল বের করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসকে উদ্দেশ্য করে অশালীন শ্লোগান দেয়। এ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভাইরাল হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিবের নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকার উত্তরা ও ফার্মগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেদ আলী এবং সাবেক পৌরসভার কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা জামাল পাশাকে গ্রেপ্তার করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল রাজধানীর উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকা থেকে শাহেদ আলী এবং ফার্মগেট এলাকা থেকে জামাল পাশাকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ৫ আগস্টের পর জামালপুর সদর থানায় নাশকতার মামলা ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুইজনই জামালপুর থেকে আত্মগোপন করে রাজধানী ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করেছেন।
এছাড়াও গত ৩ আগস্ট ছাত্রলীগ নেতা শাহেদ আলী নিজের চোখ বেঁধে অপহরণের নাটক সাজিয়ে ফেসবুকে ভিডিও প্রচার করেন। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেন।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশবিরোধী বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যেকোন চক্রের বিরুদ্ধে জামালপুর জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষ নিয়ে সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এইসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। পরে তাদেরকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে ।