ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনার ১৩ মাস পর গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এনায়েত উল্যাহ নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জুলাই আন্দোলনে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলার আবেদন করেন। এতে হামলা ও মারধরের অভিযোগে তিন সাংবাদিকসহ ১০৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন।
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানীর দিন মামলাটি প্রত্যাহার করেন বাদী। এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার ইন্ধনের অভিযোগে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি বায়েজিদ আকনকে বদলী করে জেলা ডিবিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সাম্প্রতি দেশ রূপান্তরে সোনাগাজী মডেল থানার শালিশ বানিজ্য নিয়ে ‘থানা যেন শালিশ ব্যবসার আড়ৎ’ ‘চুরি-ডাকাতি হয় মামলা হয়না’ ও ‘সোনাগাজীতে মবের শিকার ব্যবসায়ীকে বিস্ফোরক মামলায় ফাঁসালেন পুলিশ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় এক যুবদলের কর্মী এনায়েত উল্যাহকে দিয়ে দেশ রূপান্তরের ফেনী প্রতিনিধি মো. শফি উল্লাহ রিপন ও স্থানীয় দুই সাংবাদিক শাখাওয়াত হোসেন ডন চৌধুরী ও দৈনিক ফেনীর নিজস্ব প্রতিবেদক সাহেদ সাব্বির জড়িয়ে ফেনীর মহিপালে জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি করে।
এদিকে মহিপালে গণহত্যা ও বহু গুলিবিদ্ধের মতো বর্বরোচিত ঘটনায় সাংবাদিকদের জড়ানোর অপচেষ্টায় বুধবার রাতে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জরুরি সভা করে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা। এসময় মামলার নামে সাংবাদিকের কণ্ঠরোধে ভয়াল ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিক তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ফেনীতে কর্মরত অর্ধশত সাংবাদিক ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের সাথে দেখা করে বিস্তারিত অবহিত করেন।
বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে আসামিদের নির্দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে নির্বিচারে গুলি চালায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে বাদীসহ অনেকে গুলিবিদ্ধ হন এবং ৯ জন নিহত ও দুই শতাধিক ছাত্রজনতা আহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। পেশায় শ্রমিক হওয়ায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়া ও পরিবারের খরচ বহনসহ নানা কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
তবে দীর্ঘ সময় পর মামলা করার কারণ প্রসঙ্গে বাদী এনায়েত উল্যাহ বলেন, আমি আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় মামলা করতে সময় লেগেছে। এ হামলার সঙ্গে সাংবাদিকদের জড়ানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে হামলার ঘটনার সময়ের পোস্ট রয়েছে।
খোজঁ নিয়ে জানা যায়, মামলপার বাদী এনায়েত উল্লাহ বাপ্পী ২০২৩ সালে রামপুরের একটি ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ২০২৪ সালে জুলাই অভ্রুথানের আহতদের তালিকা ভুক্তিতে নিজের নাম উঠিয়ে জুলাইযোদ্ধা হয়ে যান।
এ ব্যাপারে ফেনী জেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মুহাইমিন তাজিম বলেন, মূলত গণঅভ্যুত্থানে হওয়া প্রকৃত মামলাগুলোকে দুর্বল ও জুলাই আন্দোলনকে বিতর্কিত করার জন্যই অনেকে এখন এসব মামলা করছে। এককথায় এখানে বিচারের নামে অবিচার শুরু হয়েছে। আমরা এসবের নিন্দা জানাই।
সাংবাদিক মো. শফি উল্লাহ রিপন বলেন, সাম্প্রতি সোনাগাজী থানার সালিশ বাণিজ্য, চুরি ডাকাতি নিয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তরে কয়েকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে এই মামলায় যুক্ত করেছে বলে আমি মনে করি। আমি জুলাই আন্দোলনে আহত একজন সাংবাদিক এবং গত বছরের সাহসী সাংবাদিকতায় পুরস্কার পেয়েছি।