শপথ গ্রহণ করলেন জাকসুর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা

আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এর নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে চারটার  দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে জাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান তাদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এসময় জুলাই আন্দোলনে সাভার এলাকায় নিহত শহীদ আলিফ আহমেদ সিয়াম ও শহীদ শ্রাবণ গাজীর পরিবারের সদস্যরা এবং শহীদ মিজানুর রহমানের স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন, পবিত্র গীতা, পবিত্র বাইবেল, পবিত্র  ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা৷ হয়। এরপর জাকসু নির্বাচনের ভোট গণনা কাজে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করা চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতার স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়। 

শপথ বাক্য পাঠ শেষে উপাচার্য নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন।

জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘এই নির্বাচনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় হয়েছে। নির্বাচনের প্রত্যেকটি ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। যদি কেউ নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে চান তাহলে আমরা প্রস্তুত আছি। 

জাকসুর নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি ( ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৩ বছর জাকসু না হওয়ার ফলে সিনেটে কোনো শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ছিল না। এই সময়ে সিনেট অধিবেশন ঠিকই হয়েছে কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলার কেউ ছিল না। শিক্ষার্থীদের অধিকারের স্বার্থে অতীতেও যেমন কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাইনি আগামীতেও ভয় পাব না। আপনারা যারা ভোটের মাধ্যমে জাকসুর কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের প্রতিনিধিদেরকে নির্বাচিত করে আমাদের কাঁধে গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছেন তারা দেয়া রাখবেন যাতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি।’

জাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘শপথগ্রহণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা না। এটি যদি শুধু আনুষ্ঠানিকতা হতো তাহলে জাকসু নির্বাচন হতো না। ২০২৪ এর অঙ্গীকার হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। আমাদের প্রশাসন অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল যে আমাদের যে দায়িত্ব সেটি আমাদের প্রাণ যদি বেঁচে থাকে তাহলে সে দায়িত্ব পালনে বিকল্প কিছু নেই।’

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫ টি পদে ২৫ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন।