টরন্টো উৎসবের পর এবার জমকালো আয়োজনে শুরু হলো এশিয়ার শীর্ষ চলচ্চিত্র আসর বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। গত বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানের হায়েউন্দে-গুর সিনেমা সেন্টারে বসে এবারের উৎসবের ৩০তম আসর। দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত নির্মাতা পার্ক চ্যান-উকের ‘নো আদার চয়েজ’ সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করে উৎসবটি। এ আসরে মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কোনো সিনেমা না থাকলে দেশ থেকে বিভিন্ন শাখায় ও ফিল্ম বাজারে প্রতিনিধিত্ব করছে তিন সিনেমা ও স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি। এ ছাড়া বুসান উৎসবে প্রথমবারের মতো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রবর্তন করা হয়েছে ‘জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ’।
উৎসব চলবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যেখানে ৭টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে মোট ৩২৮টি চলচ্চিত্র। নানা চমকে ঘেরা এবারের প্রথমবার চালু হলো আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা বিভাগ। এশিয়ার ১৪টি চলচ্চিত্র পাঁচটি পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যার মোট অর্থমূল্য ১১ কোটি ওয়ন (প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন ডলার)।
উৎসব উদ্বোধনের আগে লাল গালিচায় হাজির হন দেশি-বিদেশি তারকারা। ভক্তদের উন্মাদনায় মাতান ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা। ছিলেন হলিউড তারকা মিলা জোভোভিচ ও নির্মাতা পল ডব্লিউ এস অ্যান্ডারসন। জাপান থেকে অংশ নেন কেন ওয়াতানাবে ও কেনতারো সাকাগুচি, আর হংকংয়ের কিংবদন্তি টনি লিয়াং কা-ফাই। কোরিয়ান তারকাদের মধ্যে ছিলেন হান হিও-জু, হা জুং-উ, জুন জং-সিও এবং হান সো-হি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনটি বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এবারের উৎসবে ক্যামেলিয়া অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তাইওয়ানের বর্ষীয়ান নির্মাতা সিলভিয়া চ্যাং। কোরিয়ান সিনেমা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন পরিচালক জুং জি-ইয়ং, যিনি সামরিক শাসনের সময়ও সৃজনশীল স্বাধীনতার পক্ষে লড়েছেন। এশিয়ান ফিল্মমেকার অব দ্য ইয়ার সম্মাননা পান ইরানের বিশ্বখ্যাত নির্মাতা জাফর পানাহী, যিনি সাম্প্রতিক কানে ওঃ ডধং ঔঁংঃ ধহ অপপরফবহঃ ছবির জন্য পাল্ম দ’অর জিতেছেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বাধীনতার লড়াই শেষ হয়নি। এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি তাদের, যারা চাপের মুখেও নীরবে বা নির্বাসনে থেকে সিনেমা বানিয়ে যাচ্ছেন।’
এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি সভাপতি কোরিয়ান নির্মাতা না হং-জিন। জুরিতে আছেন টনি লিয়াং কা-ফাই (হংকং), নন্দিতা দাস (ভারত), কোরিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান নির্মাতা কোগোনাদাসহ সাতজন। অনুষ্ঠানের পর মঞ্চে আসেন পরিচালক পার্ক চান-উক ও তার ছবি ‘নো আদার চয়েস’-এর তারকারালি বিয়ং-হুন, সন ইয়েজিন, লি সাং-মিন, পার্ক হি-সুন ও ইয়ম হে-রান। ৩০ বছরের এ মাইলফলক সংস্করণে নিজের ছবি দিয়ে উদ্বোধন করতে পেরে আবেগাপ্লুত হন পার্ক চান-উক। ছবিটি সম্পর্কে অভিনেতা পার্ক হি-সুন বলেন, এটি একধরনের ব্ল্যাক কমেডি, যেখানে নাটকীয়তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে শক্তিশালী হাস্যরস। সমাপনী দিনে ঘোষণা করা হবে প্রতিযোগিতা বিভাগের বিজয়ীদের নাম।
উল্লেখ্য, শুরুতে এই উৎসবের নাম ছিল সান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। ১৯৯৬ সালের ১৩ থেকে ২১ নভেম্বর প্রথম অনুষ্ঠিত এই চলচ্চিত্র উৎসব। বর্তমানে এই চলচ্চিত্র উৎসব এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।