খুলনার রূপসা উপজেলায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের বিভ্রান্তিতে বিপাকে পড়ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো রূপসা কলেজ ও রূপসা সরকারি কলেজ। নামের বিভ্রান্তি দূরীকরণের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রূপসা কলেজের শিক্ষক রুমে এ সংবাদ সম্মেলন এবং সংবাদ সম্মেলন শেষে কলেজের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, রূপসা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহিদুল্লাহ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রূপসা কলেজ’ ১৯৮৬ সালে পূর্ব রূপসাস্থ খুলনার মোংলা মহাসড়কের পাশে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে এই প্রতিষ্ঠান হাজারো শিক্ষার্থীকে জ্ঞানচর্চার আলোয় আলোকিত করেছে।
অন্যদিকে, রূপসা উপজেলার অন্যপ্রান্তে ভৈরব নদীর তীরে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু কলেজ সম্প্রতি সরকারের সিদ্ধান্তে ‘রূপসা সরকারি কলেজ’ নামে পুনঃনামকরণ করা হয়।
অধ্যক্ষের দাবি, এমন নামকরণের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটিতে নানা রকমের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। রূপসা কলেজের ডাকযোগে আসা গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র ভুলক্রমে ‘রূপসা সরকারি কলেজে’ চলে যাচ্ছে এবং সরকারি কলেজের চিঠিপত্র চলে আসছে ‘রূপসা কলেজে’।
অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে সব থেকে বেশি। এ বছর প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী রূপসা কলেজে ভর্তির ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভুলক্রমে আবেদন করছে রূপসা সরকারি কলেজে। অনার্স কোর্সে প্রতি বছর ভালো ফলাফলের জন্য প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী আবেদন করলেও এ বছর আবেদন করেছে মাত্র ২৫ জন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
তাই এ বিভ্রান্ত দূর করতে হলে সরকারের সদ্য নামকৃত ‘রূপসা সরকারি কলেজ’ এর নাম পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেছেন ‘রূপসা কলেজ’ কর্তৃপক্ষ। কলেজটি ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির নতুন নাম হিসেবে ‘সরকারি ভৈরব কলেজ’ অথবা স্থানীয়ভাবে পরিচিত পূর্ব নামানুসারে ‘সরকারি বেলফুলিয়া কলেজ’ নামকরণ করে বিভ্রান্ত নিরসন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষসহ শিক্ষকরা।
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দীন, শিক্ষক প্রতিনিধি উদ্ধব চন্দ্র পাল, মো. ইমদাদুল হক, নাসরিন সুলতানা লিমা, সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, শ্যামল কুমার দাস, সুলতান আহম্মেদ, নুসরাত জাহান মিলি ও শেখ আরিফুজ্জামান প্রমুখ।