গাইবান্ধায় গত তিনদিন থেকে দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে টানা বৃষ্টির কারণে জেলা শহরে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। বৃষ্টির পানিতে শহরের প্রায় সড়ক, অলিগলি, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি ঢুকেছে। জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন ভাড়াও বেড়েছে। টানা বৃষ্টিতে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধায় শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, জেলায় আরও দুই/ তিনদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। আগামী ১২০ ঘণ্টায় আবহাওয়ায় বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরে গোরস্থান মোড়, রেলগেট, শনিমন্দির সড়ক, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, সিভিল সার্জন কার্যালয়, মুন্সিপাড়া, সরকারপাড়া, পশ্চিমপাড়া, মাস্টারপাড়া, আসাদুজ্জামান মার্কেট, ভি-এইড রোড, মধ্যপাড়া, বালাসী রোড এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় জমে থাকা পানি নামছে ধীরগতিতে।
সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ থেকে মাঠজুড়ে প্রায় হাঁটুসমান পানি। গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আশপাশে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল কমেছে। অনেককে ছাতা হাতে প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হতে দেখা গেছে।
শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন শহরের বৃষ্টি পড়ছে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখি ঘরের সামনে পানি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি বাড়ছিল। একপর্যায়ে ঘরে ঢুকে পড়া অবস্থা। টানা বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি ঢোকে। আগেও এমন অবস্থায় দীর্ঘদিন কেটেছে। বর্ষাকাল আসলেই এমন হয়। বহু বছর থেকে আমরা জলাবদ্ধতায় ভুগছি। শহরের সড়কগুলো পানির নিচে। শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। আর এই ভোগান্তি প্রতিবছর পোহাতে হয়। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।
মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা ফেরদাউস হোসেন বলেন, শহরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই বলেই চলে। এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভিএইচ রোড থেকে গোরস্থান পযর্ন্ত, পুরাতন বাজারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয় সবার। বিগত বছরগুলোয় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনা হলেও এর থেকে উত্তরণ হয়নি।
এসব বিষয়ে গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, শহরের যেসব স্থানে বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা হয়, সেসব স্থানে মাস্টারপ্লান অনুযায়ী নর্দমা নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২১ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এগুলো নিচু করে নির্মিত হবে। তখন জলাবদ্ধতা থাকবে না। আবার আগের নিচু এলাকাগুলো আবাসিক এলাকায় রূপান্তর হওয়ায় পানির ধারণক্ষমতা কমে গেছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা বাড়ছে।
এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, গাইবান্ধা জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে কোনো নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি । গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট ২০ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পয়েন্টে ৭৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।