কুমিল্লার হোমনায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে চারটি মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হওয়ার ৬০ ঘণ্টা পার হলেও উসকানিদাতাদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি, আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিমূলক একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চারটি মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ঘটনার দিন রাতেই হোমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার সরকার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় আসামিদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম শনিবার বিকেলে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যে চারটি মাজারে হামলা হয়েছে, সেগুলো হলো—আসাদপুর গ্রামের কফিল উদ্দিন শাহের মাজার, আবদু শাহের মাজার, কালাই (কানু) শাহের মাজার ও হাওয়ালি শাহের মাজার।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কফিল উদ্দিন শাহের ছেলে আলেক শাহের নাতি মহসিনের বিরুদ্ধে গত বুধবার সকালে ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। এরপরই গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমে মহসিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে কফিল উদ্দিন শাহের মাজার ভাঙচুর করা হয়। এ সময় একটি টিনশেড ও দুটি টিনের বসতঘরে ভাঙচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে অপর তিনটি মাজারেও হামলা হয়।
এ বিষয়ে হোমনা-মেঘনা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুল করিম বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কেউ মামলা না করায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের সনাক্তে কাজ চলছে।