সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভুঁইয়া

দুই লাইন কবিতা লিখে ৩ দিন গুম, ১৮ দিন জেল, ৫ বছর মামলা লড়েছি

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. নেয়ামত উল্ল্যা ভুঁইয়া বলেছেন, ‘দুই লাইন কবিতা লেখে আমি ৩ দিন গুম ছিলাম, ১৮ দিন জেল খেটেছি, ৫ বছর মামলা চালিয়েছি। এখন কি সমস্যা আছে? আগে কথা বলতে ভয় লাগতো, এখন প্রাণ খুলে সবাই কথা বলতে পারছেন।’

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বরুড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নেয়ামত উল্ল্যা ভুঁইয়া আরও বলেন, ‘আমি বরুড়ার মাটির সন্তান। আমার মা হচ্ছে বরুড়ার মাটি। আমরা যে যেখানে আছি, সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এখন প্রাণ খুলে কথা বলা যায়, হৃদয়ের কথা বলা যায়—এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। আজ আমি ঘর থেকে বের হবো, ঘরে ফিরতে পারবো, ঘুমোতে পারবো—এটাই স্বাধীনতার প্রকৃত উপলব্ধি। আমি মনের কথা মন খুলে বলতে চাই, হৃদয়ের কথা প্রাণ খুলে বলতে চাই। হৃদয়ের স্পন্দনে আজ আমার প্রাণ নাচে ময়ূরীর মতো। আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল, শুধাইল না কেহ।’

বক্তৃতায় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আজ ইউটিউব, ফেসবুকে দেখি একজন নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুস সাহেবের বিরুদ্ধে সারাদিন প্রচার চলছে, তার বাসার সামনেও চিৎকার-চেঁচামেচি হয়। আমার উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, যিনি একজন বিখ্যাত শিক্ষক, তার বিরুদ্ধেও প্রতিনিয়ত সমালোচনা হয়। আমি হয়তো এতটা জনপ্রিয় হইনি, তাই আমার বিরুদ্ধে বলা হয় না। তবে কখন বলা শুরু হবে আল্লাহই জানেন। অন্তর্বর্তী সরকারে যিনি আছেন—বিশ্ববরেণ্য ড. ইউনুস সাহেব—তার সালাম আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে এসেছি। আর আমার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, যিনি প্রবাসীদের জন্য নিরলস কাজ করছেন, তার সালামও আপনাদের জানাতে এসেছি।’

তিনি আরও জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নানা সুবিধার বিষয়ে অনেকেই অবগত নন। যেমন— বিদেশ যাওয়ার জন্য জামানতবিহীন ঋণ, বিদেশে মৃত্যুবরণ করলে ১০ লক্ষ টাকা অনুদান, মৃতদেহ দেশে আনার জন্য ৩ লক্ষ টাকা সহায়তা।

এসময় তিনি উপস্থিতদের এসব সুবিধা সম্পর্কে সচেতন হতে এবং প্রাপ্য অধিকার আদায়ের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ১২৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিএমইটি’র প্রশিক্ষণ ক্যাম্পেইন, বোয়েসেলের জব ফেয়ার, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সরল সুদে ঋণ বিতরণ এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার অনুদান চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার সরল সুদে ঋণ বিতরণ করা হয়। জব ফেয়ারের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য কর্মীও নির্বাচন করা হয়।