ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়ক-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত

ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গার দুটি ইউনিয়ন আলগী ও হামিরদী পাশের ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন-অবরোধ কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারীরা।‎

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার সঙ্গে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীরা বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

এর আগে শনিবার রাতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন ভাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান। ইউএনও কয়েকজন নেতৃবৃন্দকে তার কার্যালয়ে আসতে বলেন। এ বিষয়ে আন্দোলনকারী সাংবাদিকদের জানান, আমরা প্রথমে ইউএনওর প্রস্তাবে রাজি হইনি। কেননা আমাদের ঘারে একাধিক মামলা ঝুলছে। কাকে কোন মামলায় ঢুকিয়ে দেয় এ নিয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। এছাড়া ভাংচুরের আগেই দ্রুত বিচারের একটি মামলা হয়েছে। এদিকে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিককে। তাকে এখনও মুক্তি দেওয়া হয়নি। আন্দোলকারীরা উপজেলায় গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না এ মর্মে তারা তাদের শঙ্কার কথা ইউএনওকে জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে ইউএনও আন্দোলনকারীদের শতভাগ নিশ্চয়তা দেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না।

‎এ রকম আশ্বাসের পর ১৮-২০ আন্দোলকারী শনিবার সন্ধ্যার পর ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় বসেন। পরে আলোচনার একপর্যায়ে যোগ দেন ভাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন। 

‎ এ বিষয়ে হামিরদী ইউনিয়নের মাঝিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক জানান, ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমাদের বলেছেন, যেহেতু এ বিষয়টি নিয়ে হাইর্কোটে রিট হয়েছে। হাইকোর্ট ১০ দিনের সময় দিয়ে নির্বাচন কমিশনারকে রুল জারি করেছেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর এ রুলের জবাব দেওয়ার কথা। তাই বিষয়টি এখন পুরোপুরি আদালতে চলে গেছে। তাই এ অবস্থায় আদালতের রায় পর্যন্ত মহাসড়ক-রেলপথ অবরোধ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন। পরে আন্দোলনকারীরা মামলার বিষয় তুলে ধরে ইউএনওর কাছে নিরীহ কাউকে হয়রানী না করার নিশ্চয়তা চান। পাশাপাশি যারা ভাংচুর সহিংসতায় অংশ নিয়েছে ভিডিও ফুটেজ ধরে সুনির্দিষ্টভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাদের কোন আপত্তি নেই বলে জানান।
‎ইউএনও তাদের প্রস্তাবে সম্মত হন এবং এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দেখা করানোর প্রস্তাব দিলে আন্দোলনকারীরা সম্মত হন।

‎অতপর, ইউএনও আন্দোলনকারীদের ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসার জন্য দুটি বাস বরাদ্দ দেন। সেই বাসে চড়ে শতাধিক আন্দোলনকারী  রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার সঙ্গে আলোচনায় বসেন। দুপুর দুইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এ আলোচনা চলে। 

‎এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আব্দুর জলিল ও এক সেনা কর্মকর্তা।

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার পর এ সভার বিবরণ দিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক হামিরদী ইউনিয়নের মাঝিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা রবীন সোহেল জানান, জেলা প্রশাসক আমাদের বলেছেন আপনাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দেইনি। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতিকারী ঢুকে সহিংসতা ঘটিয়েছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তবে এ সংহিসতায় যারা জড়িত নাই, তাদের কোন হয়রানী করা হবে না। বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। রায় আমাদের পক্ষে আসবে বলে আশা করছি। রায় না হওয়া পর্যন্ত আপনরা আন্দোলন স্থগিত করুন এবং নির্বিঘ্নে জীবন-যাপন করুন। 

রবীন সোহেল আরও বলেন, জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা হাইকোর্টের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত চলমান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করছি।  

‎ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, ওই এলাকার জনগণের পালস আমি ধরতে পেরেছি। এছাড়া আন্দোলনকারীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে। তিনি আরো বলেন, এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) যারা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, ভাঙ্গা থানা ও ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় তাণ্ডব চালিয়েছে তাদের বিন্দুমাত্র কোন ছাড় দেওয়া হবে না।

‎প্রসঙ্গত গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন বাদ দিয়ে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা আদেশ কেন অবৈধ হবে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট এ রুলে জবাব দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় বেধে দেন। 

‎আগামী সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমানসহ পাঁচজন হাইকোর্টে এ আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।