চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার সীমান্তবর্তী চরতী এলাকায় অনুমোদনবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস ক্রস ফিলিং কারখানায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে আরও দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মোহাম্মদ ছালে (৩০) ও মোহাম্মদ হারুন (১৭) সোমবার ও মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া সহকারে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত হলো।
মৃত ছালে চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের ছৈয়দাবাদ এলাকার মৃত আবদুল জলিলের ছেলে। আর হারুন নুরুল ইসলামের ছেলে এবং একই এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে, শনিবার ও রবিবার রাতে একই বিস্ফোরণে আরও দুই শ্রমিক মো. ইদ্রিস (২৬), মো. ইউসুফ (৩০) এবং গুদামের মালিক মাহাবুবুর রহমান মাহাবু (৪৭) নিহত হন।
ঘটনার পর ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন- মোহাম্মদ আকিব (১৭), মো. কফিল (২২), মো. রিয়াজ (১৭), মো. সৌরভ রহমান (২৫) এবং মো. লিটন (২৮)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মালিক মাহাবুবুর রহমান সাতকানিয়া ও চন্দনাইশের সীমান্তবর্তী চরতী ইউনিয়নের একটি নির্জন এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস ক্রসফিলিং গুদাম গড়ে তোলেন। গুদামে সরকারি বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর করে বাজারজাত করা হতো।
বিস্ফোরণটি ঘটে ১৭ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে। ঘটনাস্থল থেকে ১০ জন দগ্ধ হন। তাদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ধরনের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম প্রতিরোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।