গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। নিয়োগের বছর পেরোলেও আশানুরূপ কাজ করতে পারেনি বলে মতো দিয়েছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী। সম্প্রতি একটি জরিপে উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যক্রমের এই চিত্র। জরিপটিতে শিক্ষার্থীদের চাওয়ার মাত্র ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছে বলে মত দেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা ‘ব্যর্থ প্রশাসন’ আখ্যা দিয়ে সতর্কতামূলক ‘হলুদ কার্ড’ দেখানোর ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ‘ইবি সংস্কার আন্দোলন’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মের জরিপ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্ল্যাটফর্মটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
জরিপসূত্রে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত নেয় ইবি সংস্কার আন্দোলন। তাদের এই জরিপে মোট ১৩১২জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। যাদের ৮৭৬ জন আবাসিক ও বাকি ৪৩৬ জন শিক্ষার্থী অনাবাসিক। অংশগ্রহণকারীদের শিক্ষাবর্ষভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭-২৮ বর্ষের ৬জন, ২০১৮-১৯ বর্ষের ৮০ জন, ২০১৯-২০ বর্ষের ১৮১ জন, ২০২০-২১ বর্ষের ৩৪৫ জন, ২০২১-২২ বর্ষের ২৯৩ জন, ২০২২-২৩ বর্ষের ২৭৪ জন এবং ২০২৩-২৪ বর্ষের ১৩৩ জন মতামত দেন।
প্ল্যাটফর্মটি মোট মার্ক দশ (১০) নির্ধারণ করে এই জরিপ পরিচালনা করেন। যেখানে মোট ১৩১২ জন শিক্ষার্থীর মতের গড় মার্ক দাড়ায় ২ দশমিক ৪৫, যা মোট মার্কের ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
জরিপে মূল্যায়নের বিষয়সমূহ— সেশনজট ও পর্যাপ্ত শিক্ষক সংকট নিরসনে উপাচার্যের ভূমিকা, সাজিদ হত্যার বিচারে কতটুকু সফল, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও পরিবেশবান্ধব করতে পদক্ষেপ কতটা সন্তোষজনক, ছাত্র সংসদ গঠনে ভূমিকা, অনলাইন ব্যাংকিং, ল্যাব, সনদ উত্তোলন ও ওয়েবসাইটের আধুনিকায়নে ভূমিকা, হলে খাবারের মান বৃদ্ধিতে ভূমিকা, গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধিতে ভূমিকা, মেডিকেল সেন্টারের সেবার মান, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে ভূমিকা, নারী শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা, বিভাগগুলোতে ছাত্রী কমনরুম নিশ্চিত ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে ভূমিকা এবং পরিবহন সংকট নিরসনে উপাচার্যের ভূমিকা।
সংবাদ সম্মেলনে ‘ইবি সংস্কার আন্দোলনে’র শিক্ষার্থীরা বলেন, নিয়োগের এক বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু উপাচার্যের কার্যক্রমে আশ্বাস ছাড়া কিছুই পায়নি। বিভিন্ন সময় ছাত্র সংগঠন, সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন দাবি জানালেও কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা প্রশ্ন থেকেই যায়। গত ৯ সেপ্টেম্বর ১৫ দফা দাবি জানিয়েছিলাম কিন্তু সেগুলোর ব্যাপারেও কোন অগ্রগতি হয়নি। উল্টো ছাত্র উপদেষ্টার দপ্তর থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, ‘অনুমতি ছাড়া কোনও ধরনের সভা সমাবেশ করা যাবে না।’
‘আমরা এই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছি’ মন্তব্য করে তারা আরো বলেন, আমাদের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ জরিপ পরিচালনা করেছি। এতে উপাচার্য ২ দশমিক ৪৫ পেয়েছেন, যা রেটিং অনুযায়ী খুবই খারাপ। অর্থাৎ তিনি গত এক বছরের কার্যক্রমে অকৃতকার্য হয়েছেন।
প্রশাসনের এই ব্যর্থতার বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে কল দিলে উপাচার্যের পিএস তার ফোন রিসিভ করে জানান, ‘উপাচার্য ব্যস্ত আছেন, জরিপটি তিনি এখনো দেখেননি।’
পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।