বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ম্যাচের প্রথমার্ধ থাকল গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফরোয়ার্ডদের অসাধারণ বোঝাপড়ায় বসুন্ধরা কিংসের এগিয়ে যাওয়া। ইমানুয়েল সানডে, রাকিব হোসেনদের গড়ে দেওয়া আক্রমণে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সারলেন ডরিয়েলটন গোমেজ। পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালাল ফর্টিস এফসি। তারপরও হচ্ছিল না। তবে বসুন্ধরার আছেন একজন অঘটন ঘটন পটিয়সী গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ। তার এবং লেফট ব্যাক তাজ উদ্দিনের তালগোল পাকিয়ে ফেলার শেষ পরিণতি তারিক কাজীর পা থেকে এলো আত্মঘাতী গোল। তাতে টানা চতুর্থবারের মতো ফর্টিসের বিপক্ষে জয়শূন্য থাকতে হলো বসুন্ধরাকে। নিজেদের মাঠে ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়নদের শুরুটাও হলো ১-১ ড্রয়ে পয়েন্ট খুইয়ে।
পঞ্চমবারের মতো ফেডারেশন কাপ ঘরে তোলার মিশনের শুরুতেই ধাক্কা খেতে হলো বসুন্ধরা কিংসকে। অথচ কী দুরন্ত এক শুরু পেয়েছিল দলটি। গত শুক্রবার কুমিল্লায় মোহামেডানকে উড়িয়ে দিয়ে চ্যালেঞ্জ কাপ জিতে নেয় বসুন্ধরা। চার দিন বাদেই হোঁচট খেতে হলো গোলকিপার ও ডিফেন্ডারের ভুলে। সেটাও নিজেদের মাঠে। বি গ্রুপের ম্যাচে শুরুটা হলো এক পয়েন্ট নিয়ে। গ্রুপের অপর ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে মোহামেডান।
বসুন্ধরা নেমেছিল উইনিং কম্বিনেশন নিয়ে। আক্রমণভাগে ডরিয়েলটন গোমেজ, ইমানুয়েল সানডে, রাফায়েল আগুস্তো, রাকিব হোসেন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম খেলেছেন। এমন আক্রমণভাগ নিয়ে তাদের ভয়ংকর হয়ে ওঠাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে ফর্টিস এ মৌসুমে ভালো মানের বিদেশি নেওয়ার পাশাপাশি শক্তি বাড়িয়েছে উপমহাদেশীয় কোটায় একাধিক খেলোয়াড় নিয়ে। যদিও এ ম্যাচে ফর্টিস মিস করেছে গাম্বিয়ান পা ওমর বাবুর সার্ভিস। চোটের কারণে তিনি খেলতে পারেননি। তার অনুপস্থিতি কিছুটা হলেও ভুগিয়েছে দলটিকে।
ম্যাচের দশম মিনিটে বড় ধাক্কা খেতে হয় বসুন্ধরাকে। পেশিতে টান পড়ায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রক্ষণের আস্থা ও বসুন্ধরা অধিনায়ক তপু বর্মণ। তাতে দলটির রক্ষণের শক্তি অনেকটাই কমে যায়। প্রথমার্ধে দুদল আক্রমণাত্মক মানসিকতায় খেললেও প্রতিপক্ষের গোলের দরজা খুলতে পারেনি কেউই।
বিরতির পর অবশ্য দুদলই খেলেছে জয়ের জন্য। এ লড়াইয়ে শুরুতেই এগিয়ে যায় বসুন্ধরা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে ফরোয়ার্ড লাইনের সৈনিকদের অসাধারণ বোঝাপড়ায় গোল পায় গত মৌসুমের শিরোপাজয়ীরা। সানডে নিখুঁত থ্রু পাস বাড়িয়েছিলেন রাকিবকে। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা রাকিব আলতো কাটব্যাক ফেলেন গোলমুখে। মার্কারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই বলে ডান পায়ের অসাধারণ প্লেসিংয়ে ফর্টিসের শ্রীলঙ্কান গোলকিপার সুজন পেরেরাকে পরাস্ত করেন চ্যালেঞ্জ কাপে জোড়া গোল করা ডরিয়েলটন।
ম্যাচের ৬৫ মিনিটে অবশ্য ডরিয়েলটনকে দ্বিতীয় গোল বঞ্চিত করেন সুজন। ফাহিমের পাস থেকে সাদউদ্দিনের ক্রস চলে আসে ছোট ডি-বক্সের সামনে। সেখান থেকে ডরিয়েলটনের হেড শেষ মুহূর্তে ফিস্ট করেন সুজন পেরেরা।
পাঁচ মিনিট পর সমতায় ফেরার ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন ফর্টিসের ফরোয়ার্ড সাজ্জাদ হোসেন। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ওকাফোরের মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস বাড়ান। দ্রুত অফসাইড ফাঁদ ভেঙে বল আয়ত্তে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন সাজ্জাদ। তবে সামনে বসুন্ধরা কিপার শ্রাবণকে একা পেয়েও বল পোস্টে রাখতে পারেননি। তার ডান পায়ের প্লেসিং শ্রাবণের পাশ দিয়ে বাইরে গেলে বড় সুযোগ নষ্ট হয়।
৭৮ মিনিটে নয়ন মিয়ার মারাত্মক ফাউলের শিকার হতে হয়েছিল ফাহিমকে। বাজে ট্যাকলে ফাহিম ব্যথায় কাতরাতে থাকলে মাঠে দুদলের ডাগআউটে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে এমন ফাউলের পরও নয়নকে বড় শাস্তি পেতে হয়নি। রেফারি তাকে স্রেফ হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেন।
৮৫ মিনিটে চূড়ান্ত সর্বনাশটা হয় শ্রাবণ ও তাজউদ্দিনের ভুল বোঝাবুঝিতে। ডান দিক থেকে রিয়াজউদ্দিন সাগরের একটা সাধারণ ক্রস বক্সে এলে তা ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন শ্রাবণ ও তাজ। দুজনের দৃষ্টি ছিল উড়ে আসা বলে। তাই বেখেয়ালে দুজনের সংঘর্ষে বল নিজেদের পোস্টের দিকে যেতে থাকে। অপ্রস্তুত তারিক কাজী চেষ্টা করেছিলেন তা ক্লিয়ার করতে। তবে তার বুট ছুঁয়ে বল পোস্টে জড়ালে ফর্টিস ম্যাচে ফেরে এবং এই আত্মঘাতী গোলেই জয় বঞ্চিত হয় বসুন্ধরা।
গত মৌসুমে লিগের দুই ম্যাচে ফর্টিস জিততে দেয়নি বসুন্ধরাকে। ফেডারেশন কাপের ম্যাচটা জিতেই নিয়েছিল তারা। কাল আরেকবার ঘরের মাঠে বসুন্ধরাকে হতাশা উপহার দিয়ে সেমিফাইনালে আশা জিইয়ে রাখল ফর্টিস।