১৫ ক্লাবের ৩০০ ক্রিকেটারকে নিয়ে চিন্তা তামিমের

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে তো কতবারই এসেছেন তামিম ইকবাল। খেলা, অনুশীলন, সংবাদ সম্মেলন...মিরপুর স্টেডিয়ামের ২ নম্বর গেট দিয়ে কতবারই তো ঢুকেছে এই বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের গাড়ি। এবার খেলা নয়, তামিম হাজির হয়েছিলেন শুনানির জন্য। আসন্ন বোর্ড পরিচালক নির্বাচনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্র্তৃক নিয়োজিত নির্বাচন কমিশন ১৫টি ক্লাবকে কাউন্সিলরশিপ দেয়নি দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতে। সেই ১৫টি ক্লাবের একটি, গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বিসিবি কার্যালয়ে এসেছিলেন তামিম, অংশ নিয়েছেন শুনানিতে। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে তামিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে ক্রিকেটের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ করেছেন নির্বাচন কমিশনকে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তামিম বলেছেন, ‘আমি, ওই ১৫টি ক্লাবের একটি ক্লাব আমার, আমি ভাইস প্রেসিডেন্ট গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের, আমি ওইদিক থেকেই এসেছিলাম, তবে আমি যখন কথা বলেছি তখন ওনাদের স্পষ্টভাবে বলেছি যে, দেখেন এখানে ১৫টি ক্লাবের চেয়ে বড় বিষয় হলো আপনারা যে সিদ্ধান্তটা নিতে যাচ্ছেন, আপনাকে ৩০০ ক্রিকেটারের কথা মাথায় রাখতে হবে। কারণ এই ১৫টি ক্রিকেট ক্লাব নিয়মিত ক্রিকেট খেলে, বিভিন্ন বিভাগে ক্রিকেট খেলে, প্রত্যেকটা খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দেয় এবং সেই টাকাই তাদের বছরের ৭০-৮০ শতাংশ আয়। আর এই ক্লাবগুলোর কথাই শুধু আসছে না, এই খেলোয়াড়দের পরিবারও জড়িত। যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই ব্যাপারগুলো আপনাদের মনে রাখতে হবে।’

তামিম আরও বলেন, ‘যে নিয়মে এসব করা হচ্ছে, কেন এসব করা হচ্ছে সব স্পষ্ট, এটা খুব জটিল কিছু না যে বুঝতে পারছি না। আমি বলেছি, দেখেন এই ১৫টি ক্লাব নিয়ে যে ইস্যু ছিল, সেটা তো গত ছয়-সাত বছর ধরে চলমান ইস্যু। এখনই আপনাদের এই কাজটা কেন করতে হবে, কেন এখনই এই ইস্যুটা তুলে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষকে একটা সুযোগ দেওয়া হয়, এই ১৫টি ক্লাব নিয়ে যদি আপত্তি থাকে তাহলে আপনারা কাউন্সিলর ফর্মটা দিলেন কেন? যে ১৫টি কাউন্সিলরের মধ্যে ধরে নিলাম তিন-চারজন যোগ্য কাউন্সিলর হতে পারে, যারা ক্রিকেটকে খুব ভালো একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পারে, তাদের একটা স্বপ্ন থাকতে পারে, তাদের স্বপ্নগুলো তো আপনি নষ্ট করে দিলেন। কারণ যদি এটা আজকে (শুনানির রায়) তাদের বিপক্ষে যায়, তাহলে তো আর কোনো সুযোগ নেই তাদের কাউন্সিলর হওয়ার। আপনারা তাদের কাউন্সিলরশিপ না দিতেন, তাহলে তাদের একটা সুযোগ থাকত অন্য কোনো দিক থেকে এসে কাউন্সিলর হওয়ার। যেহেতু এটা ক্রিকেটের ব্যাপার, ক্রিকেটারদের ব্যাপার, এখানে অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে হয় আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে। আপনারা জিনিষটা বুঝেশুনে সঠিকভাবে কথাটা বলবেন। কোন ক্রিকেট ক্লাবের ঠিকানা কোথায়, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রিকেট ক্লাব কি কালকে জন্ম নিয়ে কাউন্সিলর হয়ে আমরা এখানে এসব করতে এসেছি? না। এই প্রত্যেকটা ক্লাবের একটা ইতিহাস আছে, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দেওয়ার দলিল আছে, এসব জিনিস আপনারা করবেন। এই জিনিসগুলো কেন করা হচ্ছে আপনাদের কাউকে আমার বলার দরকার নেই। খুব সহজ কথা। নির্বাচনে একটা পক্ষকে দুর্বল করার জন্য এসব করা হচ্ছে। আমার কথা হচ্ছে, আমাদের এত খারাপ সময় এসে গেল যে জেতার জন্য, নিজের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য আপনারা ৩০০ ক্রিকেটারের জীবন নিয়ে খেলা শুরু করে দিলেন। নির্বাচন করবেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, যার কাছে ভোট বেশি পড়বে সে জিতে নিয়ে চলে যাবে, এটার জন্য...ক্রিকেট বোর্ডের ইতিহাসে এত নোংরামি আজ পর্যন্ত দেখিনি। যে জিনিসটা আপনারা করে যাচ্ছেন, সেটা দলিল হয়ে থাকবে। পরেও কিন্তু এই জিনিসগুলোই অনুসরণ করা হবে।’

এভাবে তামিম তার পক্ষের অনেক যুক্তিই তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে, যার অনেকটাই তিনি কিছুদিন আগে ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনেও বলেছেন। তার অভিযোগের আঙুল বর্তমান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের দিকে, যারা নির্বাচনকে পক্ষপাতদুষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে মনে করেন তামিম। বিসিবি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হবে মনোনয়নপত্র বিতরণ।