ক্যাচ ফেলা ও আর ভুল শট সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের হারে হতাশ কোচ

বাংলাদেশ দলের কোচ ফিল সিমন্স পাকিস্তানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সুপার ফোর ম্যাচে ১১ রানে হারের পর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, তিনটি ক্যাচ ফেলার পর ব্যাটসম্যানদের “ভুল শট সিদ্ধান্ত” দলের এশিয়া কাপ ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ নষ্ট করে দিয়েছে।

‎সিমন্স বলেন, যখন আমরা শাহীন আফাদি আর নাওয়াজের ক্যাচ ফেলেছি, তখনই খেলার ধারা বদলে যায়। তার আগে আমরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিলাম। কিছু ক্যাচ সম্ভবত [লাইটের কারণে] মিস হয়েছে, তবে আমার মনে হয় না আমরা যে ক্যাচগুলো লাইটের কারণে নিতে পারিনি।”

‎পাকিস্তান যখন ৫১/৫, নুরুল হাসান ও শেখ মেহেদী হাসান ১২তম ওভারে শাহীন আফ্রিদির ক্যাচ ফেলে দেন। আফ্রিদি ১৩ বল খেলে দুই ছক্কা মেরে পাকিস্তানের স্কোরে গতি যোগ করেন। পরে পরভেজ হোসেন ইমন মোহাম্মদ নওয়াজকে শূন্যতে ক্যাচ ফেল করেন। নওয়াজ ১৫ বল খেলে ২৫ রান করেন, দুই ছক্কা ও একটি চারে পাকিস্তানকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।

 
‎সিমন্স ব্যাখ্যা করেছেন, আমাদের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যক ওভারে রান তাড়া করতে হতো না। আমাদের শুধু খেলা জিততে হতো। এটা ছিল শুধুই ভুল সিদ্ধান্ত। সব দল কখনও না কখনও এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। আজ সেটা আমাদের হলো। আমরা সঠিক শট সিলেকশন করতে পারিনি।”

‎তিনি আরও বলেন, দুই ম্যাচ আগে আমরা ১৬০ [শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৯] রান তাড়া করেছি। আমরা এমন দল নই যারা এক ম্যাচে তানজিদ [হাসান] ও অধিনায়ক [লিটন] হারিয়ে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারি। আমরা সেই পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছি, কিন্তু এখনও পৌঁছাইনি। এমন ভালো ফর্মে অধিনায়ক হারানো আমাদের জন্য বড় ধাক্কা।”


‎বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে তিনি বলেন, আমরা একই উইকেটে ১৬০ [১৬৯] রান তাড়া করেছি, যেখানে আমরা ভালো ব্যাটিং সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ব্যাটিং অর্ডার বলে দেয় না আমরা ভালো বা খারাপ ব্যাট করেছি। আজ আমরা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”



‎শেখ মেহেদীকে নং ৪-এ প্রোমোট করার প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, আপনি এটিকে দেখছেন একজন ৪-এ ব্যাট করছে। আমি এটিকে দেখছি একজন পাওয়ারপ্লেতে পেসারদের মোকাবিলা করছে। নিচের দিকে নাৃলে তাকে স্পিনারদের বিপক্ষে খেলতে হতো। আমি জাকের [আলি] ও শামিম [হোসেন]কে স্পিনারদের খেলার জন্য নিআে রেখেছিলাম।"

‎স্ট্রাইক রেট এবং পার্টনারশিপ গড়ার বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন, যত বেশি আমরা আন্তর্জাতিক স্তরে খেলব, স্ট্রাইক রেটের ব্যবধান কমবে, খেলোয়াড়রা জানবে এই স্তরে কী করতে হবে। আমি মেনে নিই আমাদের স্ট্রাইক রেট অনেক উপরে নেই, তবে আমরা ছয় মারার ক্ষেত্রে উপরে আছি। এটা দ্রুত রান করার ক্ষমতার সমস্যা নয়। আমাদের দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে হবে এবং পার্টনারশিপ গড়তে হবে।”

‎সিমন্স হারের পর এশিয়া কাপ থেকে বিদায়ের পর কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন, “[সাইফ হাসান] এই অভিযানের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক। আরেকটি হলো আমাদের বোলাররা পুরো টুর্নামেন্টে কেমন খেলেছে। তারা সব খেলায় নিখুঁত ছিল।”