নিখোঁজের তিনদিন পর সেপ্টিক ট্যাংক থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে নিখোঁজের তিনদিন পর ৬ বছর বয়সি এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাইয়েবা নামের ওই শিশুর মরদেহ বাড়ির পাশের এক প্রতিবেশীর সেপ্টিক ট্যাংক থেকে শুক্রবার দুপুরে উদ্ধার করা হয়েছে।

ওই শিশু উপজেলার সখিপুর থানার ছৈয়ালকান্দি এলাকার টিটু সরদারের মেয়ে। সে স্থানীয় দারুণ নাজাত মাদরাসার নার্সারীতে পড়াশোনা করত। গত বুধবার দুপুর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।

ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানা সূত্র জানায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার ছৈয়ালকান্দি গ্রামের টিটু সরদারের মেয়ে তাইয়েবা স্থানীয় একটি মাদরাসার নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাইয়েবা বুধবার বিকালে বাসা থেকে খেলার উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে থানায় নিখোঁজ হওয়ার সাধারণ ডায়েরি করেন।

তাকে খুঁজে না পেয়ে গত তিনদিন ধরে এলাকায় মাইকিং করা হয়, পোস্টারিং করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তার স্বজনেরা নিখোঁজের সংবাদ প্রচার করতে থাকেন। শুক্রবার সকাল থেকে পুনরায় এলাকাজুড়ে তল্লাশি শুরু করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। এরপর বাড়ির পাশের মেসবাহ উদ্দীন মোল্লার বাসার ট্যাংকের ঢাকনা কিছুটা খোলা দেখলে সন্দেহ হয় তাদের।

পরে সেখানে তাইয়েবার মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় তারা। দুপুরে সখিপুর থানার পুলিশ ওই ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। ওই শিশুর মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তাইয়েবার আত্মীয় স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিরুল বাসার বলেন, আমার আত্মীয় টিটু সরদার সখিপুর বাজারের ব্যবসায়ী। তার দুই সন্তানের মধ্যে তাইয়েবা ছোট। বুধবার সে নিখোঁজ হওয়ার পরে আমরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তার সন্ধান পাচ্ছিলাম না। আজ তার নিথর দেহটি পাওয়া যায়। লাশের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হতে পারে। কেউ শত্রুতা বসত এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাদের ধারণা। আমরা চাই পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনুক।

সখিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হক বলেন, শিশুটি নিখোঁজের পর আমরাও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। আজ দুপুরে খবর পেয়েছি বাড়ির পাশে এক প্রতিবেশীর একটি সেফটিক ট্যাংকের ভেতর তার মরদেহ পাওয়া গিয়েছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। কি কারণে ওই শিশুটিকে এমনটা করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে।