এবি পার্টির সোলায়মান চৌধুরী ফিরলেন জামায়াতে

আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী।

তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীতে আবার যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন।

২৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ তুলে ধরেন।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২ মে সাত দফা কর্মসূচি ও সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়ের অঙ্গীকার নিয়ে এবি পার্টি যাত্রা শুরু করে। প্রথমদিকে দেশজুড়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই সম্পন্ন করা হয়। 

কিন্তু তৎকালীন সরকারের প্রভাবের কারণে সেই সময় নিবন্ধন মেলেনি। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টালে ৫ আগস্টের পর দলটি আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন পায় এবং দলীয় কাউন্সিলে মজিবুর রহমান মঞ্জু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সোলায়মান চৌধুরীর অভিযোগ, নতুন কমিটি গঠনের পর দলটি ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম বিস্তারে কোনো অগ্রগতি নেই এবং বিভিন্ন জেলার নেতারা দল ছাড়ছেন। 

তার মতে, দল গঠনের মূল উদ্দেশ্য—মানুষের অধিকার রক্ষা ও সমস্যা সমাধান—ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়েছে।

তিনি আরও জানান, তাকে শুধু নামমাত্র উপদেষ্টার দায়িত্বে রাখা হয়েছে, যেখানে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ কার্যত নেই। 

তাই এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাকালীন অঙ্গীকার আর দলের কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত না হওয়ায় তিনি সব ধরনের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

নিজের রাজনৈতিক পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন কোনো সংগঠন নয়, বরং পুরনো রাজনৈতিক ঠিকানা জামায়াতে ইসলামীতে ফিরতে যাচ্ছেন। 

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে তার প্রাথমিক আলাপ হয়েছে এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

পদত্যাগের ঘোষণার পরদিনই সোলায়মান চৌধুরী বসুন্ধরায় জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।