ভারত জুজু কবে দূর হবে! কোনো পর্যায়েই যে তাদের হারানো যাচ্ছে না। ময়দানি লড়াইয়ে বারবার চেষ্টা করেও হেরে যেতে হচ্ছে। শনিবার আরেকটি হারের হতাশা সঙ্গী হলো কলম্বোতে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে বাংলাদেশ লিখেছিল অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে গোল করে ম্যাচটা ২-২ করে ফেলেছিল তারা। শিরোপা ভাগ্য নিয়ে গিয়েছিল টাইব্রেকারে। অথচ স্নায়ুর চাপে ভেঙে পড়ে ভাগ্য পরীক্ষাটা একপেশে করে ফেললেন গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে হেরে ভারতকে আরেকবার শিরোপা উৎসব করার সুযোগ করে দিলেন তারা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাফের টানা চারটি বয়সভিত্তিক আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। প্রতিবারই ভারত হেসেছে শেষ হাসি। সিনিয়ররা শেষ কবে ভারতকে হারিয়েছে তা জানতে হলে হাতড়াতে হবে দূর অতীত।
অথচ পুরোটা ম্যাচ চোখে চোখ রেখে খেলেছিল বাংলাদেশের ছেলেরা। দুর্ভাগ্য ও বাজে রেফারিংকেও চাইলে দায়ী করতে পারে বাংলাদেশ। দুই অর্ধে দুটি নিশ্চিত পেনাল্টি বাংলাদেশকে বঞ্চিত করেছেন ভুটানিজ রেফারি। এছাড়া পোস্টও একাধিকবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগের তিন ম্যাচে ১০ গোল করা বাংলাদেশকে ফাইনালে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে হয়েছে বারবার। তবে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে গুনি এইবার পাস ঠিকঠাক রিসিভ করতে পারেনি দাল্লালমোন গাংতে। তবে আজম খানের পা ঘুরে ফের বল পেয়ে যান। এবার তার শট রুখতে পারেনি কেউ। ম্যাচের ১৪ মিনিটে বাংলাদেশকে নিশ্চিত পেনাল্টি বঞ্চিত করেন রেফারি থেওয়াং মেপা। নাজমুলের কর্নার ভারতের ইন্দ্র রানা মাগারের হাতে লাগলেও এড়িয়ে যায় রেফারির চোখ। ২৫ মিনিটে নাজমুল হুদা ফয়সালের কর্নার মোহাম্মদ আরিফ হেড করে গোলমুখে দিলে মোহাম্মদ মানিকের হেড ভারত কিপার ড্যানি সিংয়ের গ্লাভস ছুঁয়ে গোললাইন অতিক্রম করে।
৩৮ মিনিটে লিড পুনরুদ্ধার করে ভারত। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ক্রস ফেলেছিলেন গুনি এইবা। বাংলাদেশ কিপার আলিফ রহমান তা ক্লিয়ার করলেও আজলান শাহ ফিরতি বলে শট নেন। দুই ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে তা জালে জড়ালে ফের পিছিয়ে যেতে হয় বাংলাদেশকে। শেষ দিকে জোর চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার। ৮৯ মিনিটে ফের বাংলাদেশকে বঞ্চিত করেন ভুটানিজ রেফারি। ফয়সালের কর্নারে মানিকের হেড ভারতের ডিফেন্ডার শুভম পুনিয়া হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন গোলমুখের জটলায়। তবে খুব কাছ থেকেও রেফারির চোখ এড়ায় তা। যোগ করা ৫ মিনিটের শেষ মিনিটে সাব্বিরের লম্বা থ্রো-ইন গোল মুখের জটলায় এলে ইহসান সাব্বির রিদুয়ান গোল করে বাংলাদেশকে টিকিয়ে রেখেছিলেন শিরোপা লড়াইয়ে। তবে টাইব্রেকারের প্রথম দুই শটে গোল করতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের ইকরামুল ইসলাম ও আজম খান। ইকরামুলের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং আজমের শট ঠেকিয়ে দেন ভারত কিপার। বাংলাদেশের তৃতীয় শট নিতে আসা মানিক গোল করলেও লাভ হয়নি। পেনাল্টি নিতে আসা ভারতীয়রা ছিলেন ক্লিনিক্যাল। টানা চারজনই সহজেই পরাস্ত করেন বাংলাদেশ কিপার আলিফকে।