উন্নত দেশের ১০ বছর আগেই আমাদের হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে

দেশ রূপান্তর : হৃদরোগ হলো হার্টের একটি অবস্থা বা বিকৃতি, যা হার্টের পেশী, ভাল্ব, ছন্দ বা রক্তনালীকে প্রভাবিত করে থাকে। বিশ্বব্যাপী এ রোগের প্রভাব অনেক। বাংলাদেশে হৃদরোগের প্রাদুর্ভাব কেমন?

অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী : যখন বলা হয় বাংলাদেশে হৃদরোগের অবস্থা কি? তখন পরিসংখ্যানের দরকার হয়। আমাদের দেশে এক সময় সংক্রামক রোগে বেশি লোক মারা যেতেন। এখন কিন্তু উল্টো হয়ে গেছে। এখন আমরা বলি, নন কমিউনিকেবল ডিজিজ বা সংক্রামক নয় এমন রোগে মারা যায় ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ। তার মধ্যে সব থেকে বেশি হলো, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (হৃৎপি- বা রক্তনালীর সঙ্গে জড়িত যেকোনো রোগ)। আবার ওই ৭০ ভাগের মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগ লোক মারা যাচ্ছে হৃদরোগের কারণে।

এখানে দুইটি বিষয় থাকে, একটি হলো হৃদযন্ত্রে রক্তনালী এবং মস্তিষ্কের রক্তনালীর রোগ। দুইটি কিন্তু একই সূত্রে গাঁথা। যখন হৃদযন্ত্রের কোনো রক্তনালী বন্ধ হচ্ছে তখন হার্ট অ্যাটাক (হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ) হচ্ছে। মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে বা ছিঁড়ে গেলে, রক্তপাত হলে, আমরা বলি স্ট্রোক (মস্তিষ্কের রক্তনালী বন্ধ হওয়া)। দুটিই কিন্তু কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের মধ্যে পড়ে গেল। যখন কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের কথা বলি, তখন আপনার আশপাশে দেখবেন, অল্প বয়সে কি পরিমাণ লোকের হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে!

তুলনামূলকভাবে বললে ইউরোপ, আমেরিকা বা উন্নত দেশের প্রথম হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ৬৫ বছরের দিকে হয়ে থাকে। বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়শীল ৫২ দেশের ৩০ হাজার লোকের মধ্যে গবেষণা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এই গবেষণায় বাংলাদেশও একটি দেশ ছিল। আমাদের হৃদরোগ ইনস্টিটিউট সেই গবেষণায় সহায়তা করেছিল। সেখানে দেখা গেছে, দেশে প্রথম হার্ট অ্যাটাকের বয়স হচ্ছে, ৫১ বা ৫২ বছর। আর পাক-ভারত উপমহাদেশে গড়ে ৫১ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হয়। এর মধ্যে সব থেকে কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক হয় বাংলাদেশে। তারপরে পাকিস্তান ও ভারতে। এর মধ্যে ৫৫ বছরের দিকে হার্ট অ্যাটাকের চিত্র একমাত্র নেপালে পাওয়া যাচ্ছে। তার মানে ইউরোপ, আমেরিকার লোকদের ১০ বছর আগে আমাদের হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে।

খেয়াল করে দেখেন, ৫০ থেকে ৫৫ বছরের একজন লোকের যখন হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে, তখন তিনি কিন্তু তার সংসার জীবনের মধ্যভাগে থাকেন। ছেলে-মেয়েরা হয়তো স্কুল-কলেজে পড়ছে। তাদের কেউ নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখেনি। সেই লোকই হয়তো পরিবারের একমাত্র উপার্জনের লোক। সেই লোকই হয়তো হার্ট অ্যাটাক করেছে, যার মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ থেকে ১২ শতাংশ। যদি বেঁচেও যায় সে কিন্তু হার্ট ফেইলিউরে ধুঁকে ধুঁকে মারা যেতে পারে। এ সময় তারা চিকিৎসা ব্যয় যদি বিবেচনা করেন এবং এর জন্য যে সময় ব্যয় হচ্ছে, সেটি যদি দেশের অর্থনীতির দিক থেকে বিবেচনা করি, তাহলে এটা কিন্তু একটা বিরাট ব্যাপার। একজন ৮০ বছরের লোকের হার্ট অ্যাটাকে সমাজের যে ক্ষতি, আর একজন ৫০ বা ৫৫ বছরের লোকের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মধ্যে আর্থিকভাবে যদি বিবেচনা করি, তার বিশ্লেষণটা অন্যরকম হয়ে যাবে!

দেশ রূপান্তর : কেন হার্ট অ্যাটাক হয়?

ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী : শুরুতেই চলে আসে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের বিষয়। এটার প্রভাব সব থেকে বেশি। আমাদের দেশের গবেষণা বলছে, প্রতি চার জনের একজন লোক হাইপারটেনশনে ভুগছেন। সেটা না হয় থাকল, এর চিকিৎসা আছে। সমস্যাটা হলো যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের কেউ জানেই না তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে। কারণ তিনি কোনোদিন পরীক্ষা করেননি। এর কারণ হলো, এটা (উচ্চ রক্তচাপ) বুঝা যায়না। তাই একে নীরব ঘাতক বলা হয়। সে চুপি চুপি কাজ করতে থাকে। সে কোনো লক্ষণ দেখায় না। হঠাৎ করে একদিন ধরা পড়ল তার উচ্চ রক্তচাপ আছে। তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত. ধূমপান। যদিও আগের তুলনায় ধূমপান কিছুটা কমেছে। আগে ধূমপানের হার ছিল ৬০ শতাংশ। এখন সেটি কমে ৪০ শতাংশে এসেছে। আমি তো শুধু ধূমপানের কথা বলছি, এ ছাড়া- সাদা, জর্দা, গুলের মতো তামাক পণ্য রয়েছে। এর সবগুলোই আমাদের জন্য ক্ষতিকর। সেটি কি আমরা হিসাব করি? করি না!

ডায়াবেটিস পরিসংখ্যান বলছে, ৭ থেকে ১০ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আর ডায়াবেটিসের পূর্বাবস্থাসহ ধরলে ২০ শতাংশের মতো হবে। তাহলে দেখেন, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান ও ডায়াবেটিস এ তিনটি বিষয় আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে রয়েছে। তাহলে এসব মৌলিক ঝুঁকির বিষয়গুলো নিয়ে যদি আপনি ১০০ জন লোক নেন, তাহলে দেখা যাবে এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ জন লোকের একটানা একটা ঝুঁকি রয়েছে।

এবারের বিশ্ব হার্ট দিবসে কি যে স্লোগান সহজভাবে বললে আমরা যাতে সচেতন হই। আমরা যাতে সজাগ থাকি। আমাদের হার্টের যত্ন রাখি। এক্ষেত্রে, আমরা শুধু সচেতন করতে পারি। আর সজাগ থাকার বিষয়টি ব্যক্তির নিজের। যেমন, আপনি নিজের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবেন কি না, ধূমপান ছাড়বেন কি না; তামাক পরিহার করবেন কি না? ওজনটা নিয়ন্ত্রণ করবে কি না? ঠিকমতো ঘুমাবেন কি না? মানসিক চাপ কমানোর জন্য কিছু চেষ্টা করবেন কি না? এটা কিন্তু নির্ভর করবে নিজেদের ওপর। আমরা কিন্তু বয়স আটকাতে পারব না, বয়সের সঙ্গে আমার হার্টের রোগ কিন্তু বাড়বে। তবে পরিবারের অন্যদের হৃদরোগ থাকলে সেটি হয়তো ঠেকানো যাবেনা। কিন্তু ওই যে বিষয়গুলো বললাম, সে বিষয়গুলো বলে দিচ্ছে আপনার পরিবর্তন হওয়া জরুরি। সেজন্য সচেতনতা প্রয়োজন, আমি একা ভালো থাকব না। আমি চাইব আমার আশপাশের যারা আছেন, তারা যাতে সচেতন হন। যেমন আমরা যদি লবণ, চিনি ও তেলের ব্যবহার কমাই। একটু হাঁটাহাঁটি করি, ঘুমের মাত্রাটা একটু বাড়িয়ে দেই। তাহলে ভালো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘুমের বিষয়ে কথা আছে, চার ঘণ্টার ঘুমকে ভালো বলা যাবে না। একজন লোকের কম পক্ষে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। আবার রাত তিনটায় ঘুমিয়ে দুপুর ১২টায় উঠলাম, এটা কিন্তু কোনো কাজের কথা হলো না। কারণ রাত হলো ঘুমানোর সময়, সেই রাতেই যাতে আমরা পরিপূর্ণভাবে ঘুমাই। তাই বিশ্ব হার্ট দিবসে যখন কথা বলব, তখন নিজের জন্য বলবনা। আমার পাশের সবার জন্য বলব। যাতে আমরা সচেতন হই। সবাই ভালো থাকতে পারি।

দেশ রূপান্তর : দেশের চিকিৎসার মান কেমন? অনেকে বিদেশে হৃদরোগের চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী : হৃদরোগে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে, এটা তো হাস্যকর কথা। এটা গৎবাঁধা কথা। এর কোনো পরিসংখ্যান দিতে পারবেন না। সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, তিনটা জায়গায় আমাদের সক্ষমতা কম- ক্যানসার; কিডনি প্রতিস্থাপন এবং ইনফার্টিলিটি (বন্ধ্যত্ব)। বাকি সব রোগী কিন্তু এ দেশে ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন। তিনটি ছাড়া বাকি রোগে মৃত্যুর হার বাড়েনি। তাহলে হৃরোগের বিষয়ে কথা বলতে হলে সঠিক সংখ্যা বা তথ্য হাতে নিয়ে বলতে হবে। হৃদরোগে বিদেশে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এক্ষেত্রে পুরাতন গান শোনাবেন না। এটা পুরাতন বাদ্য।

দেশ রূপান্তর : আপনি বললেন, দেশেই চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে, এক্ষেত্রে চিকিৎসাব্যয় সীমিত আয়ের মানুষের সাধ্যের মধ্যে আছে?

ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী : আমাদের জনসংখ্যা ১৮ কোটির বেশি। এই প্রতিষ্ঠানে (এনআইসিভিডি) বছরে সাড়ে পাঁচ লাখ লোকের চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমাদের (এনআইসিভিডি) আর্থিক সক্ষমতা কতটুকু। এর মধ্যেও সেবার মান তুলনা করার মতো। এখানে মৃত্যুর হার ৬ দশমিক ২ শতাংশ। রোগীরা হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর নিয়ে আসছে। সারা দেশের সব থেকে খারাপ রোগীগুলো আমাদের কাছে আসছেন। তারপরও ৭ শতাংশের নিচে মৃত্যুহার এমনি এমনি হয়ে যায়নি। কিন্তু কথা হচ্ছে, এ সুবিধাতো শুধু এখানে। বাকি সারা দেশে কি একই সুযোগ সুবিধা আছে? নেই। সেই উপযুক্ত পরিমাণ লোক আছে? নেই। তার মানে আমাদের সক্ষমতাটা এখনো ততটা ভালো নয়। আমাদের দক্ষ লোক আছেন, কিন্তু সুযোগ-সুবিধা অত বেশি  নেই। আর দক্ষ লোকের কথা বললে দেখবেন যারা অভিজ্ঞ তারা কিন্তু বড় শহরগুলোতে আছেন। কারণ সুযোগ-সুবিধাগুলো শুধু ওখানেই আছে। এখন একজন দক্ষ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে মিঠামইনে, রাঙ্গামাটিতে পাঠিয়ে দিলাম। সেখানে কি তিনি কিছু করতে পারবেন? পারবেন না। ওইসব জায়গায় বিশেষজ্ঞ দিতে পারলে ভালো। তবে জরুরি হলো সেখানে যাতে প্রাথমিক চিকিৎসাটা ভালো হয়। সরকার সেই চেষ্টাটাই করছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের ওষুধ দিচ্ছে। সে খবর কি আমরা জানি? সে খবর কি আমরা রাখি? তবে হ্যাঁ- ওইসব জায়গায় যে পরিমাণ চাহিদা আছে, সে পরিমাণ সহায়তা সরকার দিতে পারছে না। তাহলে সেখানে কি দরকার? সেখানকার যেসব ধনী মানুষ আছেন, তাদের কি উচিত না এগিয়ে আসা। প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে অসংখ্য, অসংখ্য মহা ধনী আছেন। পট-পরিবর্তনের পরে আমরা খবরে দেখছি, অমুকে শতকোটি টাকা পাচার করেছে! হাজার কোটি ও লাখ কোটি টাকা পাচার করে দিয়েছে। এক কোটি দুই কোটি না। শত লাখ কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। তারা কি এ দেশের জনগণের সেবার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান করেছেন! হাসপাতাল করেছেন! একমাত্র আদদ্বীন হাসপাতালকে দেখছি, তারা নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তদের জন্য করছেন। আর কোনো ধনী লোককে এভাবে এগিয়ে আসতে দেখছি না। সবাই শুধু সরকারের কাছে চায়। সরকার দেবে কোথা থেকে। আমরা সবাই কি ট্যাক্স (রাজস্ব বা কর) দিই। আমার আপনার ট্যাক্স দিয়েই সরকারকে চলতে হয়। আমরা যদি সবাই মিলে সরকারকে সহায়তা করি, তাহলে সরকার কিন্তু অনেক কিছু করতে পারে। সক্ষমতার কথা বা সরকারের কথা যখন ওঠে, তখন আমি বলব আপনি কতটুকু করছেন?

এখানে আরও একটু কথা আছে, আমরা শুধু চিকিৎসার কথা বলি। কিন্তু প্রতিরোধের কথা বলি না। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম ভালো ভূমিকা রাখছে। এই যে, ৬০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে ধূমপান কমে এসেছে, এটা কিন্তু জনসচেতনতার মাধ্যমে হয়েছে। মিডিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। আলোচনায় না আসলেও কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে অনেক সচেতনতা বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আগে যেখানে ১৪ বা ১৫ শতাংশ লোক উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে সচেতন ছিলেন। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে এখন তা ৫২ শতাংশ হয়েছে। তার মানে, কোনো একটি মাধ্যমে যদি আমরা সচেতনতা জোরদার করতে পারি, তাহলে প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক গুণ বেড়ে যায়। এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে ওঠা মানেই হলো, প্রকৃত দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাওয়া। আমি যদি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের হার ৫০ ভাগ কমে যায়। একইভাবে হার্ট ফেইলিউর ও কিডনি সমস্যা ২৫ শতাংশ কমে যায়। তাহলে আমি যদি একটা সমস্যা (উচ্চ রক্তচাপ) নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, কতগুলো উপকার হয়। আর যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেশি কমে যাবে। কাজেই আমাদের সবাই মিলে সচেতনতা বাড়তে হবে।

দেশ রূপান্তর : একজন স্বাভাবিক মানুষ কীভাবে বুঝবেন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন?

ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী : এই যে, স্বাভাবিক মানুষের কথা বললেন ৪০ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তার কি উচিত না, নিজের অবস্থাটা কেমন তা জানা? প্রেসার মেপে দেখা, কোলেস্টেরল, ক্রিয়েটিনিনটা (কিডনির অবস্থা) কেমন আছে? এই পরীক্ষাগুলো করলেই প্রায় সারা শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো হয়ে যায়। কিন্তু আমরা গাড়ি রিপেয়ারিংয়ে (নষ্ট হয়ে গেলে ঠিক করা) অভ্যস্ত হয়ে গেছি। গাড়ি যে, সার্ভিসিং- (যন্ত্রের কার্যক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা) কিন্তু করি না। গাড়ি দিয়ে উদাহরণ দিলাম এ জন্য- সবাই কিন্তু গাড়ি কিনলে নিজের প্রয়োজনে রিপেয়ারিং বা সার্ভিসিং করায়। কিন্তু এই দেহ যন্ত্র আল্লাহ বিনা পয়সায় দিয়েছেন তো! এ যন্ত্রের যে, মাঝে মাঝে সার্ভিসিং করতে হবে এটা কিন্তু আমাদের খেয়াল থাকে না।

দেশ রূপান্তর : কীভাবে হৃদযন্ত্র ঠিক রাখা যাবে?

ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী : ওই যে বলেছি, খাওয়ার ব্যাপারে একটু সচেতন হোন। মাছ, ডাল, শাক-সবজি, ফল বেশি খান। দুধ খান, ডিমটা কুসুমসহ খান। গরু ও খাসির গোশত কম খান। ভাজাপোড়া একটু কম খান। রান্নায় ভুনা না করে, ঝোল বেশি রাখেন। ধূমপান বন্ধ করেন। সময়মতো ঘুমাতে যান এবং ভালোমতো ঘুমান। মোবাইলটা একটু কম ব্যবহার করেন। একটু হাঁটেন। সিঁড়ি ব্যবহার করেন। ওজন কমান। ধূমপান যখন ছাড়ছেন, তার সঙ্গে পান, জর্দা বা অন্যান্য তামাক ছেড়ে দেন। এবং মনের দিক থেকে ভালো থাকার চেষ্টা করেন। ভালো শুধু নিজে না, আশপাশের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করেন। তাহলে সবাই কিন্তু ভালো থাকব।

দেশ রূপান্তর: হৃদরোগে বায়ুদূষণের প্রভাব আছে কি? থাকলে তা’ আমাদের কি পরিমাণ ক্ষতি করছে?

ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী: বায়ুদূষণে প্রায়ই বাংলাদেশ খবরের শিরোনাম হচ্ছে। বিশ্বের তিনটি শহরের তুলনা করা হলে- আমাদের ঢাকা তার মধ্যে একটা। এটা গর্বের বিষয় না। এটা ভয়াবহ দুশ্চিন্তর বিষয়। বলা হচ্ছে, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের ক্ষেত্রে এই বায়ুদূষণ ব্যাপক প্রভাব রাখছে। কোনো কোনো পরিসংখ্যান বলছে, বায়ুদূষণের প্রভাবে অন্তত ২৪ শতাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে এবং অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। হিসাবটা এমন, দূষিত বায়ুর কারণে- আপনি আমি সিগারেট না খেয়েও প্রতিদিন তিনটা সিগারেট খাচ্ছি! যা হৃদযন্ত্রকে নীরবে অচল করে দিচ্ছে।

দেশ রূপান্তরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী: দেশ রূপান্তর ও দেশ রূপান্তরের পাঠককে ধন্যবাদ এবং সবাইকে সচেতন ও যতœবান হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।