২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী পাকিস্তান দলের সদস্য শোয়েব মালিক বলেছেন, ভারতের এশিয়া কাপ ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের ভবিষ্যতে অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। রবিবার দুবাইয়ে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেও ভারতীয় দল ট্রফি গ্রহণ করেনি। তারা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল প্রধান মোহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নেওয়ার সুযোগও নিতে চায়নি।
খেলোয়াড় সূর্যকুমার যাদব জানিয়েছেন, এটি দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল এবং সম্মানিত অতিথিরা চলে যাওয়ার পরই তাঁরা খালি ডায়াসে শিরোপা উদযাপন করেছেন। ম্যাচের পর টাপমাড টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালিক এই সিদ্ধান্তকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন, “খেলোয়াড়রা যে পরিশ্রম করেছে, দুবাইয়ের তাপমাত্রা সহ্য করেছে, সেই পরিশ্রম ট্রফি জেতার জন্য। তারপর এত পরিশ্রমের পরও ট্রফি নিতে গেল না। আজ তারা হয়তো এই সিদ্ধান্ত উদযাপন করছে, কিন্তু কয়েক বছরের পর এটা তাদের জন্য প্রলয়স্বরূপ হবে। তারা আফসোস করবে- আমরা ট্রফি জিতেছিলাম, কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম, কিন্তু ট্রফি কখনোই হাতে পাইনি।'
মালিক আরও বলেছেন, এটি দলের জন্য একটি বিশাল সাফল্য হলেও ট্রফি না নেওয়ায় সেই মুহূর্তটি উদযাপনের সুযোগ হারিয়ে গেছে। 'খেলোয়াড়রা, তারা অ্যাথলেট। একজন ক্রীড়াবিদ মাঠে আসে, সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, আর সেটাই তার কাজ। এটি একটি এত বড় অর্জন, এত ক্লোজ ম্যাচ জিতে ট্রফি না নেওয়া মানে সেই মুহূর্তটি হাতছাড়া করা। এটা একটি বিশাল মুহূর্ত ছিল।'
ভারতকে বয়কট করো দেখি আইসিসি কি করতে পারে
এদিকে আরেক পাকিস্তানি সাবেক ক্রিকেটার কামরান আকমাল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক স্থগিত করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি আহব্বান জানিয়েছেন।
এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ভারতের হ্যান্ডশেক না করা এবং ট্রফি জিতেও তা না নেয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে আকবল বলেন, 'পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে অবিলম্বে ঘোষণা করা উচিত- আমরা কখনোই ভারতের সঙ্গে খেলব না। দেখা যাক কী ব্যবস্থা নেয় আইসিসি।' তিনি আইসিসি নেতৃত্বের (জয় শাহ)-এর সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডের র ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন এবং অন্য ক্রিকেট বোর্ডগুলোর একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের ট্রফি না নেয়ার সিদ্ধান্তকে 'স্বস্তা আচরণ' উল্লেখ করে আকবল বলেন, 'যত দ্রুত এসব নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ততই সবার জন্য ভালো। পাকিস্তান ও ভারতের বাইরে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন, যার সদস্য হতে পারে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। তারা সিদ্ধান্ত নিক যে এই টুর্নামেন্টে যা হয়েছে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই সস্তা আচরণ আমরা ভারতের কাছ থেকে আরও দেখতে পাব। পিসিবি ও এসিসি প্রেসিডেন্ট সঠিক অবস্থান নিয়েছেন – ট্রফি নিতে হোক বা না হোক, তা প্রেসিডেন্টই দেবেন। ভারত ক্রিকেট বিশ্বের হাসির পাত্রে পরিণত হবে।'