অন্তর্হিত অগ্নিগলা

আমরা কোনো প্রমত্ত নদীর কাছে যেতে চেয়েছিলাম। কাঠামো ছাড়া কোনো নদী ছিল না। জেমস রেনেলের সংশোধিত মানচিত্রের শাখা নদীটি আদি রূপে নেই। নিষ্প্রভ আর ছেড়ে যাওয়া স্টিমারের চেয়েও ধূসর হয়ে গেছে। বহিরাগতদের প্রথম আক্রমণের চারশ বছরের পুরনো স্মৃতির থেকেও অধিক ছিল তার কূলপ্লাবী বেড়ে ওঠা নাগরিক বিপর্যয়ের ক্ষত।

তাই আমরা ভেবেছিলাম কোনো তারকা হোটেলের ডাইনিংয়ের কথা বা তার পূর্ববর্তী সময়ে তাদের নির্বিঘœ লবির কথা। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ‘নির্বিঘ্ন’ বলতে আর কিছুই ছিল না। যেখানে যাদের যাওয়ার কথা নয়, তারাও পৌঁছে গিয়েছিল। আর কারও অগ্যস্তযাত্রায় বসেও হলওয়ের প্রকাণ্ড ব্রোঞ্জের হাঁড়িতে থাকা গাছের মতো অখিন্ন হয়ে উঠেছিল।

আমরা স্মৃতিহীন ছিলাম। রুপার চামচ আর তৈজসপত্রের মতো দলবদ্ধ, তবু বিচ্ছিন্ন ছিলাম। চীনা মাটির কোনো পাত্রের মতো আমাদের শে^ত মাটি কাওলিন আর তার পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া রোমন্থিত গল্প ছিল না। তবু আমরা তাদের মতো অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে শিখেছিলাম। কিন্তু মৃৎশিল্পের কোনো কারিগর আমাদের তুষার-আবৃত সময়ের কোনো সন্ধ্যার স্যুপ বোল বা ঘুমন্ত নিসর্গযুক্ত কোনো ফ্লাওয়ার ভাস বানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

অন্যথা হলে হয়তো আমরাও অগণিত সম্ভাবনা হয়ে শহিদুল জহিরের কোনো নির্বাচিত মহল্লার উপলক্ষ হতে পারতাম, দাঁড়কাক কিংবা বানরের সঙ্গে উদ্রেক-তাড়িত সহাবস্থানে বসে উজ্জীবিত হতে হতে গ্রীষ্মকালীন ফল কিংবা ডালপুরীর নামে আলোপুরির শঠতায়ও আহ্লাদিত হওয়ার পরক্ষণেই ফুলবাড়িয়ার ছায়া জুড়ে বিচরিত কোনো শেফালির জন্য অধীর হতে হতে নিমফল দাসীর মেয়ের চুলে তোরঙ্গের স্মৃতি যা মৃতের থেকে অধিক ভার বা গোধূলির অন্তরালে প্রাণীদের কিংবা আমাদের বিশেষক্ষণ হয়ে যেতাম।

আমরা আমাদের প্রথম অভিযান বা গিরিখাতের পাশে দাঁড়ানো দুর্গম বন হতে পারতাম। অন্তত আন্তন চেখভের দ্য কিস গল্পের ঢালু কাঁধের ছোটখাটো অফিসার র‌্যাবোভিচের মতো আমরাও কোনো আকস্মিক চুম্বন বা স্ফুরণের স্মৃতি বহন করতে পারতাম জলে ধসে পড়া তারা, বিষাদাচ্ছন্ন নাইটিঙ্গেলও তার গান কিংবা না হওয়া প্রেম বা পরিণতির আকাক্সক্ষা নিয়ে তাঁবুতে ফিরে যেতে পারতাম। আর প্রতিটি দেহগত প্রেমের পর না-হওয়া ক্ষণিকের প্রণয়ের কাছে সন্তপ্ত হতাম। তবু আমরা অতীতকে অবধারিতভাবে মেনে নিয়েছিলাম।

আমরা বাক্সময় না হয়েও আমাদের সাধনা আর দুর্বলতার কথা বলেছিলাম। আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া মৃত্যু, বিচ্ছেদ, অবিশ্বাস আর আলোকরশ্মির কথাও বলছিলাম। মাঝে মাঝে সচেতনে উঁকি দিয়ে ভেতরে আড়াল করা উন্মত্ত প্রবাহ দেখছিলাম। নির্মাণ আর উৎপাদনের গল্প বলতে বলতে কোনো হারানো বন-বিড়ালের ধূসর পশমের খোঁজে আকীর্ণ হয়ে উঠেছিলাম। তার কিংবা তাদের মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর-পূর্ববর্তী সময়ের ইউরোপীয় বৃত্তান্ত কবে, কে কোথায় ছেপেছিলেন তা ভাবতে ভাবতে আমরাও বিপন্নপ্রায় হয়ে পড়েছিলাম।

আমরা ঐতিহ্যগতভাবেই স্বর্গীয় পাখি দুধরাজ কিংবা তার সঙ্গিনীর মতো সাহসী, তুখোড় এবং বিচক্ষণ ছিলাম না এবং আমাদের প্রত্যুষে আমরা আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার বদলে ইরান দেশীয় কোনো রাজকন্যার মতো বিভ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তাই আমাদের কখনোই গ্রীষ্মকালীন কোনো শাহী ফলের সংকীর্ণ ডালে কোনো স্বর্গ ছিল না, বসন্ত কিংবা ভেজা ঋতুতে চারটি করে গোলাপি ডিম বা ডিম সাজিয়ে তা ছিল না। দ্ব্যর্থহীনভাবে আমরা তা স্বীকারও করে নিয়েছিলাম এবং হয়তো চেখভের গ্রিফ গল্পের হতচ্ছাড়া মাতাল টার্নারের মতো মৃত মাট্রিওনার অভিব্যক্তিহীন অঘোর দৃষ্টির সব উৎকণ্ঠা ও দায় কোনো অদৃশ্য ঘোড়াকে দিয়ে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম।

অগ্নিগলা পাখিটি কত রকমের সহজতর অভাবে একাকী হতে হতে কোনো ঝোপের অন্তরালে বা উপত্যকার গহিনে তার আনুলম্বিক উড়াল আটকে থিতু হয় আর লতা-গুল্মের সালেক-সংশ্লেষণ দেখতে দেখতে পতঙ্গের খোঁজে শাখাচারী জীবন কাটিয়ে দেয় আমরা তাই ভাবছিলাম।

বিপ্লবের নাকের ডগায় বসে কমিউনিটি শিক্ষকরা কীভাবে শল্য চিকিৎসক হয়ে উঠেছিলেন আর শৃঙ্খলিত আক্রমণকে কত গর্বে শ্রদ্ধেয়জনরা অভিবাদন জানিয়েছিলেন এই আলোচনা ঔদ্ধত্যপূর্ণ বলে হেলেন দ্বীপে নির্বাসন এবং চিকিৎসাধীন সময়ে কেন বা কীসের আলোকে নেপোলিয়ন ‘এলবাকে দেখার আগেই আমি সক্ষম ছিলাম’ এই বাক্য বলে উঠেছিলেন এবং আদৌ কি ঠিক এভাবে বলেছিলেন, তা নিয়ে বিশ্লেষণে বসে আবার সক্ষমতা ও অক্ষমতায় নিজেদের দেখছিলাম।

ঐক্যবদ্ধ আর অন্তর্ভুক্তির দ্বৈততা এড়িয়ে আমরা আলোকিত ছবি এবং নির্দয় অভিব্যক্তি দেখছিলাম। চলমান শুদ্ধিকরণ পর্ষদের পোশাক এবং ক্যারিশমেটিক বয়ানে পূর্বসূরিদের ইতিহাস ও তার আস্ফালিত বিচরণকে এক লহমায় তুচ্ছাতিতুচ্ছ করার প্রয়াসের তারিফও করছিলাম। তারপর হয়তো কালো চিবুকের তেলাপিয়ার আগ্রাসী বিস্তারে শ্যামদেশের কত হ্রদ ও জলাশয় ঝুঁকিতে পড়েছিল আর তা শুধু পরিবেশ নয়, আর্থিক খাতকেও যে বিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল তা ভেবে অধীর হয়ে পড়েছিলাম। তার সবুজাভ পিঠ ও রুপালি উদরের ফাঁদে কত প্রজাতি-প্রজন্ম হারাবে, তা ভেবে ভয়ার্তই ছিলাম।

আমরা পশ্চিমা বিশ্বের সাম্প্রতিক কিছু বিক্ষোভকে পুঁজি করে অতি-ডানপন্থিরা কীভাবে অপ্রতিরোধ্য ও ভয়ংকর হয়ে উঠছে এবং বর্ণবাদী মনোভাব যে একটি রাষ্ট্রকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, তা বলতে বলতে উদগ্রীব ও বিষন্ন হয়ে পড়েছিলাম। সেন্ট জর্জের ক্রুগুলো সংখ্যালঘুদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও উপাসনাস্থলগুলোতে কতটা অপমান ও বিদ্রুপ নিয়ে খচিত হয়েছিল সে ভাবনা, কিংবা ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের ওল্ডবারির সহিংসতা এবং সেই নির্লজ্জ হুকুম ‘বেরিয়ে যাও, এটা তোমার দেশ নয়’ এসব বলতে বলতে কোনো শোকপ্রস্তাব উত্থাপন না করেও আমরা নিঃশব্দ বসেছিলাম।

অভিবাসকামী মানুষেরা কত সহায়হীন হতে পারে আর ওয়েস্টমিনস্টারের কঠোর জেল্লায় ভর করে উইন্ডরাশের সেই ঘা যদি আবারও জেগে ওঠে সে আশঙ্কায় হয়তো আমরা উদ্বেলিত ছিলাম।

পরক্ষণেই অযোধ্যার শেষ নবাবের অঢেল প্রতাপশালী বেগমমাতা তার শেষ যাত্রায় জহরতের ঝলকানিতেও কত নিষ্প্রভ ছিলেন আর নিজের রাজ্য ফের ফিরে পাওয়ার প্রার্থনায় ব্রিটেনের রানীর দুয়ারে কত বিদীর্ণ ছুটছিলেন তা বলছিলাম। ভীত-সন্ত্রস্ত করুণ আর্জির ভার বইতে না পেরে আরেক পুত্রসমেত নবাবমাতার পথে মরে যাওয়ার গল্পের পাশে আমরা শোকাবহ বা কিছুটা ক্রোধান্বিত হয়ে বসেছিলাম। নির্বাসনের নাম কেন মেটিয়াবুরুজ আর প্রহসনের রঙ কেন অরুণিম হয়, আমরা তাই ভাবছিলাম।

আহারপর্বে আমরা মাশরুম ও সামুদ্রিক মাছের উপকারিতা বলতে বলতে নোনা জীবনের নিঃসঙ্গতায় ডুবেছিলাম। কারও সমুদ্র ডুবের অভিজ্ঞতা আমাদের তাড়িত করছিল না। তবে ঢেউ ভাঙার শব্দ হয়েছিল।

ঝলসানো মাংসের ফালি কাটতে কাটতে পর্যায়ক্রমে আমরা দক্ষতা এবং দুর্বলতা দেখিয়েছিলাম। মাখন ও জলপাই তেল মথিত মাংসের পাশাপাশি আমরা ধূমায়িত শস্য এবং খণ্ডিত সবজিগুলো যথেষ্ট নেড়েচেড়ে খাচ্ছিলাম আর আমাদের ব্যগ্র আঙুলগুলো দেখছিলাম। হয়তো সামান্য বিরতি দিয়ে ন্যাপকিনে কৌণিকভাবে ঠোঁট মুছতে মুছতে আমরা কেঁপে উঠেছিলাম আর তা ঢাকতেই বলে উঠেছিলাম আদৌ কি ‘আর্ট অব প্ল্যাটিং’ অক্ষুন্ন থাকে কিংবা ক্ষুধার্ত হলে ঠিক কতক্ষণ? আমাদের তখন খাদ্যে প্রথিত বা ছড়ানো হার্বের থেকেও অসহায় লাগছিল। আর ব্রাসেলসের অঙ্কুরগুলোর জন্য বেদনা উত্থলে উঠেছিল।

লাল মখমল কেকে ক্রিম পনিরের তুষারকণা আর চকোলেট গেটোর সঙ্গে আইসক্রিম ফাজ এবং পানীয় হিসেবে নিয়েছিলাম টুকরো কমলা-ভেজানো জলে হিমের বুদবুদ। আমরা ছোট করে মোলায়েম এবং আর্দ্র ডেসার্ট কাটতে কাটতে ভাবছিলাম এক সম্পূর্ণ জীবনে একটি সন্ধ্যাই তো সবচেয়ে নিকটবর্তী। তবে তারও অন্ত আছে।

আমরা আমাদের ভেতর থেকে বেরিয়ে আনুষঙ্গিক দৃশ্যে বুঁদ হবো বলে চেয়ারের হাতল চেপে পেছনে ঝুঁকেছিলাম। বাতি নয়, যেন ফায়ারপ্লেসে নিঃসঙ্গ হয়ে জন্মানো স্বর্ণাভ আলোতে বসেছিল অনেকেই। সবাই হয়তো সাম্প্রতিক সময়ে কেনা তাদের সেরা পোশাকটা পরেছিল এবং উপভোগ্য খাবারের পর তাদের যথেষ্ট তৃপ্ত ও ঝুলে থাকা শোভিত লণ্ঠনের মতো নির্ভার লাগছিল। শব্দ এখানে অভূতপূর্ব, তাই সবাই অনুচ্চ স্বরেই কথা বলছিল। বাইরে তখন শরতের ধ্রুপদি আকাশ নামতে গিয়েও থমকানো আর কিঞ্চিৎ দূরে স্থাপিত ঝর্ণাধারা ভূগর্ভে যার উৎস ছিল না।

আবদ্ধ রুমের সমাগমে, খেতে বা উদযাপন করতে, ভিনদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সভা করতে বা হয়তো ভালোবেসে কিংবা না বেসে বা শুধুই মাংস ভালোবেসে আসা নরনারীদের আত্মজীবনী বন্ধ করে ভাবছিলাম এদের মধ্যে কারও কারও হয়তো সম্মিলিত ঘর আছে কিংবা হবে। আর আজই হয়তো কেউ কেউ কোনো স্কচ বা পানীয়ের আতিশয্যে এক বসন্ত কামনা কিংবা শত জন্মের প্রহসন নিয়ে সেই ঘরে দ্বার দেবে।

আমরা নহর এবং নাওয়াল ছিলাম। এক দশক পরে আমরা একত্রে একটি সন্ধ্যা এবং অপরিণত রাত দেখেছিলাম। কুয়াশা নীল বা সমুদ্রের তলবন্দি শীতল রঙ আর নৌজীবনের গাঢ়তম নীলিমার পোশাক পরে বিমূঢ় হয়ে বসেছিলাম। দেখতে বৃষ্টিচ্ছটার মতো তীক্ষè, সমুজ্জ্বল এবং আকষর্ণীয় ছিলাম আমরা। আমাদের ত্রিশ উত্তীর্ণ জীবনের সঙ্গে প্রথম কিংবা শেষ সন্ধ্যা যাপন ছিল সেটা ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫।

আমরা ভিন্ন দেশ এবং পরিণামের ফাঁদে পড়েছিলাম। কৌতুকচ্ছলে এও বলেছিলাম যে, আমাদের অল্প বা বিস্তৃত শৈশব আমরা এই ভূখণ্ড থেকেই ধার নিয়েছিলাম। ব্যক্তিগত বিষাদের দ্রাঘিমায় বসে রাষ্ট্রীয় অসুখ এবং বিগ্রহ আওড়ানো আমরা এভাবেই প্রাসঙ্গিক করেছিলাম।

বিদায় নিয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে ফিরে গেলাম যে, পারিবারিক কোনো দুর্ঘটনা বা আমাদের মৃত্যু ব্যতীত আরও ঠিক এক দশক পরে পো নদীর মোহনায় ভেনিস শহরে আমরা আরও একটি দিন কাটাব। আমরা কোনো ক্ষণ তৈরি না করেই পুরো এক দশকের ছুটি নিয়ে পৃথক ট্যাক্সিতে উঠে পড়লাম।

কেউ কারও ঘুমের মধ্যে পেজার রাখতে চাইনি। লুক্কায়িত সমুদ্র বা অন্তহীন বাসনা আমরা গিলে ফেলেছিলাম। উড়ে গিয়েছিলাম আমাদের জন্য নির্ধারিত বাহুডোরে আশ্রিত বা পুনঃস্থাপিত হতে। আকাশসীমাও কখনো বহিরাগতদের অধিকারে চলে যায়।

আমরা চাইনি যে কারও বাড়ি ফেরার শব্দে আমাদের বুক ভেঙে যাবে, কারও অবকাশযাপনের ছবির পাশে আকণ্ঠ বসে থাকব আর ঘাসফুলের এইটুকু ছোঁয়াতেও উন্মনা হবো। আমরা চাইনি অতটা বর্বর বা অসহিষ্ণু হতে। চাইনি আমাদের মানসিক সংযুক্তি সেলফোনের প্রতীকী চিহ্নের দখলে চলে যাবে। দূরবর্তী আলিঙ্গনের রঙ হয়তো কার্যত ধূসর-নীলই ছিল আর সেই প্রবোধে হয়তো মহাসাগর মাঝে রেখে অনেকেই ঘুমাতে গিয়েছিল। তবু আমরা অলীক আলিঙ্গন চাইনি। আমাদের অতল গল্প, বৈশ্বিক উৎকণ্ঠা এবং অসমাপ্ত অনুভূতির জন্য হয়তো আরও একটি অপরাহ্ন বা রাতের অসীম অনুষঙ্গ প্রয়োজন ছিল।

দেখা যাক, এক দশকের অববাহিকায় আমরা কোথায় যাই। 