ক্যামোফ্লাজ
পিলসুজে সাজানো আমার মৃত্যুফুল
ঢেকে আছে নেকাবের মতো অন্ধকার
জলের মতো হিম শিরায় শিরায় কথা কয়
স্মৃতির পৃষ্ঠা উল্টে পাল্টে মগ্ন ক্লান্ত ছায়া
ছেঁড়া মেঘের গর্জনের মতো জিজ্ঞেস করে
বয়স কত পিলসুজে সাজানো সান্ধ্য প্রদীপের?
বিশীর্ণ আঙুল চিরে পয়গম্বরি নামতার সূত্রে
মৃত্যুফুলের প্রতিটি শিরায় শিরায় পরিমাপ যন্ত্র সাজাই
কিন্তু এ এক আশ্চর্য ক্যামোফ্লাজ
হাজার বছরের নির্জনতা এসে শারদ মেঘের মতো
বলে গেল, মৃত্যুফুল প্রতি বছর ফোটে
সে বেঁচে থাকে মৌসুম পাল্টানো বৃক্ষের মতো!
রায়
ঘুম নাকি জ্বর
নামছে অঝর
মগজে ঘাই মেরে
মজ্জার বাঁধ ছিঁড়ে
কে নেয় বসত তুণে!
আমিও কঠিন ঘুণ
ছেড়েছি সব নুন
বিবসা রাতের ডাকে
মেঘের হাঁকডাকে
বসে আছি তাই
বিধাতার রায়!
প্রাগুক্ত
রাত্রির গা থেকে খুলে গেছে আগুনজামা
ছোপ ছোপ পড়ে থাকা বিটুমিন সমুদ্র
ভাঁজ খুলে বাতাসের শিরায় ঢালছে
জটিল দিনের চতুরঙ্গ।
আগুনজামা খুলে পড়ে যাচ্ছে ভোরে
তারার তিমির থেকে ফেটে গড়িয়ে পড়ছে
তাজা খুনের মতো তরল তালের ঝনাৎকার
প্রাগৈতিহাসিক বিহঙ্গ।
তোমরা তো জানোই, আমি একে একে খুলছি
পূর্বপুরুষের গোপন সিন্দুক
তোমরা তো জানোই সিন্দুক খুলে নিয়ে আসছি
নতুন দিনের কঙ্কাল
আর আমি আগুনজামা গায়ে ঘুমিয়ে পড়ছি
আমার পরদাদার সিন্দুকে!