গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে স্পেনে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৪টা থেকে বিক্ষোভের লাইভ সম্প্রচার করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিকে গাজাগামী ত্রাণবাহী ফ্লোটিলা আটকানোর পর সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ডজনখানেক কর্মীকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার (জিএসএফ) বেশ কয়েকটি নৌযান ‘নিরাপদে থামানো হয়েছে’ এবং যাত্রীদের ইসরায়েলের এক বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে।
আটককৃত নৌযানগুলোকে গাজার উপকূল থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকানো হয়। যদিও এ এলাকায় ইসরায়েল টহল দিয়ে থাকে, তবুও তাদের এখানকার ওপর কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী নৌযানগুলোকে পথ পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল, কারণ তারা ‘একটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং একটি বৈধ নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করছিল।’
অন্যদিকে, জিএসএফ এসব আটক অভিযানকে ‘অবৈধ’ ও ‘প্রতিরক্ষামূলক কোনো পদক্ষেপ নয়’ বলে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, এটি ‘একটি মরিয়া অবস্থার নোংরা প্রদর্শন।’
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, ফ্লোটিলার একটি নৌযানকে ইচ্ছাকৃতভাবে সমুদ্রে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি নৌযানকে জল কামান দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
অপরদিকে ইসরায়েলের হাতে ২২ ইতালীয় আটক হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ফের গাজায় অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছেন।
ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বৈঠকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা সবকিছু করব যাতে এই লোকেরা যত দ্রুত সম্ভব ইতালিতে ফিরতে পারে। আমি এখনও বিশ্বাস করি যে এসব কিছু ফিলিস্তিনি জনগণের কোনো উপকারে আসে না।’
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি সংসদে জানান, ইসরায়েল ২২ ইতালীয় নাগরিককে আটক করেছে, যারা সুস্থ আছেন।
তায়ানি বলেন, ‘আমি স্বস্তি বোধ করছি যে সম্পৃক্ততার নিয়মগুলো মেনে চলা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে কোনো সহিংসতা বা জটিলতা ঘটেনি।’
ফ্লোটিলা আটক করার ঘটনায় ইতালিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ইউনিয়নগুলো শুক্রবার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে
এদিকে, হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ভোর থেকে এখন পর্যন্ত গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি হামলায় আরও ডজনখানেক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন, যেখানে হামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল গাজার উত্তর ও মধ্যাঞ্চল।